করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দ্বীপ জেলা ভোলায় বাইরের বাসিন্দাদের প্রবেশে নিরুৎসাহিত করে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। পর্যটন এলাকায় যেতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আরও জানা গেছে, মানুষকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।গণসমাবেশ, খেলা, মেলা, উৎসব স্থগিত করা হয়েছে। চায়ের দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পার্কে জমায়েত নিষিদ্ধসহ হাত মেলানো ও কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশ থেকে কোনও ব্যক্তির ফেরার খবর পাওয়ামাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, কাগজেপত্র অনুসারে গত দুই সপ্তাহে ভোলা জেলার এক হাজার ৪৩০ জন বাসিন্দা দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকাল পর্যন্ত ১৮০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে জেলায় ৬ প্রবাসীকে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সদরের তিন জন, মনপুরায় এক জন ও চরফ্যাশনের দুই জন। তবে এখন পর্যন্ত জেলার সার্বিক অবস্থা ভালো রয়েছে বলেও জানান ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন।
এদিকে ফেসবুকে প্রচারিত তথ্য, সরকারি স্কুলের সামনে ঘোরাফেরার সময় দুবাই ফেরত শামিম আজমকে এলাকাবাসী গণধোলাই দিয়েছে। তবে এই ব্যাপারে থানায় কোনও তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ভোলা মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন। তিনি জানান, নরসিংদী থেকে এক লোক ভোলা শহরতলীর রতনপুরে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন, শুক্রবার খবর পেয়ে ভোলা থানা থেকে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে জানতে পারে যে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে তার বাড়ি ফেরত পাঠিয়েছে।
বাইরের জেলার মানুষদের ভোলায় প্রবেশের ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জানান, আসলে আমরা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বাইরের জেলার লোকজনকে ভোলায় আসতে নিরুৎসাহিত করার জন্য ভোলার স্থানীয় স্বজনদের অনুরোধ করেছি।
এদিকে জেলা সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তির সংখ্যা ১৮০ জন। এদের মধ্যে তজুমদ্দিনে ৪৫ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৭ জন, দৌলতখানে ১৮, ভোলা সদরে ৩৩, চরফ্যাশনে ১১, মনপুরায় ২৩ ও লালমোহন উপজেলায় ৩৩ জন রয়েছেন।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে ওমান, ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালেয়েশিয়া, আবুধাবি থেকে আগত ব্যক্তির সংখ্যাই বেশি বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী আরও জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যাক্তিরা সবাই বিদেশ থেকে এসেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের জ্বর ও সর্দি-কাশি রয়েছে, বাকিরা মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে আমরা সবাইকে ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছি।
এছাড়াও চরফ্যাশন উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে মেয়াদ শেষে ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে ভোলার স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে জেলা সদর হাসপাতালসহ প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে করোনা ওয়ার্ড (আইসোলেশন) রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ৮টি মেডিক্যাল টিম। এছাড়াও ৮টি কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে। জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।







