জেলা লকডাউনের মধ্যেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বেড়তলায় মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় কীভাবে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হলো সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। তদন্ত দলের প্রধান ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন সোমবার (২০ এপ্রিল) জানান, ‘দাফতরিক তথ্য-উপাত্ত, ভার্চুয়াল জগতের নানা খুঁটিনাটিসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরেজমিনেও খতিয়ে দেখা হবে।’
তিনি জানান, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জানাজায় লক্ষাধিক লোক সমবেত হওয়ার ঘটনায় রবিবার থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ সোমবার তদন্তের দ্বিতীয় দিনের কাজ করছেন তারা। আগামী ২৩ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা নির্দেশনায় বলা হয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনে আরও দুই-একদিন বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন আরও বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। এখনও বেশ কিছু কাজ বাকি আছে। আজও আরও কিছু কাজ করবো। এখন পর্যন্ত যে তথ্যগুলো সামনে আসছে সেটা হলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছিল। সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিল। সার্বিক বিষয় তদন্ত করে আমি পুলিশ সদর দফতরে রিপোর্ট জমা দেব। এরপর কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে অবহেলাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মার্কাজ পাড়ায় নিজ বাড়িতে মারা যান ইসলামী আলোচক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারী। পরের দিন শনিবার সকাল ১০টায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা হয়। পরে সরাইল উপজেলার বেড়তলায় তার প্রতিষ্ঠিত জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
এই জানাজার পর সরাইলের আট গ্রামের মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) প্রশাসন এসব গ্রামের লোকজনকে বাইরে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।এদিকে লোক সমাগত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে সরাইল থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন টিটুকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানাজার তথ্য জানানো হয়!
জানাজায় শরিকদের হোমকোয়ারেন্টিন করবে পুলিশ, সরাইলে ছয় গ্রাম লকডাউন
মানুষ সচেতন থাকায় ওই জানাজায় লোক কম হয়েছে: খেলাফত মজলিস মহাসচিব







