জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাকিস্তানি নারী কূটনীতিক ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায় সরকার। এজন্য পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।
কয়েকদিন আগে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি নেতা ইদ্রিস শেখের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন গোয়েন্দারা।
২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা এবং খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক ইদ্রিস শেখসহ জেএমবি’র চার সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও ইদ্রিস শেখ ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত এক নারী কূটনীতিক নানাভাবে তাদের সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন। পরে ইদ্রিস শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদ জঙ্গিদের মদদ দিয়েছেন বলে জানান। জঙ্গিদের মদদে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইও জড়িত বলে জানান ইদ্রিস শেখ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জেএমবি নেতা ইদ্রিস শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই জবানবন্দিতে পাকিস্তানি ওই নারী কূটনীতিকের কথা বলা হয়েছে। মনিরুল আরও বলেন, পাকিস্তানি নারী কূটনীতিকের বিরুদ্ধে তারা এখনও আইনগত কোনও পদক্ষেপ নেননি। বিষয়টি তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কোনও কর্তৃপক্ষকেও জানাননি। তাছাড়া ১৬৪ ধারায় দেওয়া ইদ্রিস শেখের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটিও তাদের কাছে নেই। বিষয়টি তারা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
৩০ নভেম্বর গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল জানিয়েছিলেন, গ্রেফতার হওয়া ইদ্রিস শেখের কাছ থেকে একটি স্পাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই স্পাই মোবাইল ফোনটি পাকিস্তানের একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। বাংলাদেশ থেকে তিনি যা বলতেন সেই কথাগুলো রেকর্ড আকারে ভিডিওসহ ওই গোয়েন্দা সংস্থার কাছে চলে যেত। ওইদিন নাম না বললেও বাংলাদেশ নিযুক্ত পাকিস্তান হাই কমিশনের এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন ইদ্রিস শেখ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মঙ্গলবার দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে বলেন, দেশের মাটিতে বসে কোনও বিদেশি কূটনীতিককে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে দেওয়া হবে না। নাশকতায় পাকিস্তানি কূটনীতিকের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পাকিস্তানের কূটনীতিক ফারিনা আরশাদের জঙ্গি ও সহিংসতা সহায়ক কোনও কাজে সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে বিষয়ে অবহিত নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে তথ্য পাইনি। যদি আমরা এ বিষয়ে কোনও তথ্য পাই তবে আইনগত পদক্ষেপ নেব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফারিনা আরশাদকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে পাকিস্তান দূতাবাস সোমবার একটি নোট ভারবাল [অফিসিয়াল চিঠি] পাঠিয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নোট ভারবালে তারা ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন অভিহিত করেছে।
গত জানুয়ারিতেও পাকিস্তানের আরেক কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মাজহার খানকে জাল নোটসহ পুলিশ বনানী থেকে গ্রেফতার করে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পায়। যার ভিত্তিতে মাজহার খানকে ফেরত পাঠাতে পাকিস্তান মিশনকে নির্দেশও দেওয়া হয়।
/জেইউ/এসএসজেড/এমআর/এফএ/







