সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে জরুরি বিভাগের বাইরে ভ্যানের ওপর বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দু্টি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার মাছখোলার ঝুটিতলা এলাকায় বাবার বাড়িতে অবস্থানকারী গৃহবধূ শিমুলি রানী এবং তার পরিবারে সঙ্গে দেখা করেন ও সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর খোঁজ খবর নেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। এ সময় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া খাদ্য সহায়তা সামগ্রী পৌঁছে দেন তিনি। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করেন। ওই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. বদিউজ্জামানকে প্রধান করে দুপুরে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে সেই দিনের বর্ণনা শুনে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। এটা খুবই দুঃখজনক। ভ্যানের ওপর বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. এহেছান আরাকে প্রধান করে আজ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত (১ মে) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের ছনকা গ্রামের গৃহবধূ শিমুলী রাণী প্রসব বেদনা নিয়ে সদর হাসপাতালে যান। চিকিৎসক না থাকায় ও করোনার ভয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের না পেয়ে সঙ্গে থাকা লোকজন হাসপাতালের বাইরে ভ্যানের ওপরেই কাপড় ঘিরে ডেলিভারি করান। ডেলিভারির পর সদর উপজেলার মাছখোলার ঝুটিতলা এলাকায় বাবার বাড়ি চলে আসেন শিমুলী। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরেই এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি দাঁড়িয়ে দেখেও হাসপাতালের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে গৃহবধূর পরিবার থেকে অভিযোগ উঠেছে।
গৃহবধুর বাবা পরেশ চন্দ্র দাশ বলেন, ‘শহরের দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও করোনার ভয়ে সেখানে ভর্তি না নিয়ে সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও কোনও চিকিৎসা পাইনি।’
ঘটনার দিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. অসীম সরকার বলেন, ‘সেদিন আমি আমার রুমের মধ্যে ছিলাম। আমাকে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি অন্য স্টাফদের কাছ থেকে পরে জেনেছি। জরুরি বিভাগে আসার আগেই ওই গৃহবধূর সন্তান প্রসাব হয়ে যায়। সে কারণে তাকে আর জরুরি বিভাগে ওঠানো হয়নি। সাধারণত রোগীকে জরুরি বিভাগে ঢোকানোর পর চিকিৎসক ডাকা হয়। স্টাফরা কেন আমাকে ডাকলো না সেটা আমি জানি না। তাদের উচিত ছিল আমাকে জানানো। আমার ডিউটি শেষ হওয়ার পর থেকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে আছি।’








