অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ চিকিৎসা সামগ্রীর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নগরীর চকবাজার ও আসকারদিঘীর পাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী করোনার এই মহামারিতে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ চিকিৎসা সামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারের মজুত থাকলেও ক্রেতাদের নেই বলে ফিরিয়ে দেয়, যদিও তারা বেশি দামে বিক্রয় করার জন্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আজ দুপুরে নগরীর চকবাজার ও আসকারদিঘীর পাড় এলাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে নগরীর চকবাজার এলাকার কাতালগঞ্জে অবস্থিত বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গেলে প্রতিষ্ঠানের মালিক শহীদুল আলম অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয়ের কোনও ধরনের ইনভয়েস ও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। কিন্তু, তার দোকানে ও গুদামে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মিটারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে।এছাড়াও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে বলে জানালেও বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি তার বিক্রয় ক্যাশ মেমোতে থাকা কার্বন কপিতেও কোনও ধরনের টাকার অংক ও ক্রেতার নাম ঠিকানা লেখা ছিল না। ক্রেতাদের অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে সিলিন্ডার নেই বলছেন তবে গোপনে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকে জানা যায়, শহীদুল আলম তাদেরকে সিলিন্ডার নেই বললেও বিশেষ ক্ষেত্রে বেশি দামে বিক্রয় করে। ব্যবসায়ের ন্যূনতম নিয়ম না মেনে চরম অসততার পরিচয় দিয়ে তিনি সিলিন্ডার প্রতি লাভ রাখছেন ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, আর মিটার প্রতি লাভ রাখছেন ৩০০০ টাকার বেশি। চরম এই অনিয়মের কারণে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযানে কাজির দেউরি আসগারদীঘির পাড়ের হাসান ট্রেডার্সকেও বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স দেখাতে না পারায় এবং আইসিইউ বেড ও পেসেন্ট বেডের ক্রয় রশিদ দেখাতে না পারায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।








