‘মাদক নিতে এসে বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ভাই নিহত

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
১৭ জুলাই ২০২০, ১২:৪৩আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২০, ১২:৪৪

বন্দুকযুদ্ধ কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। তারা দুই জনই মাদক ব্যবসায়ী ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাদের আটক করে অভিযানে নিয়ে গেলে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয় বলেও পুলিশ দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে টেকনাফের চকবাজার এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলছে, নিহতরা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকা থেকে টেকনাফে মাদক সংগ্রহ করতে এসে আটক হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে ইয়াবা উদ্ধার অভিযানে গেলে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহতরা হচ্ছেন, চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা আমানুল ইসলাম ওরফে ফারুক (৩৭) ও তার ভাই আজাদুল হক (২৩)। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

ওসি জানান, বৃহস্পতিবার টেকনাফের মৌলভীপাড়া এলাকায় একটি ইয়াবা চালান ক্রয়-বিক্রয়ের খবরে অভিযান চালিয়ে আজাদুল হক নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা তার বড় ভাই ফারুককে আটক করা হয়। এসময় তারা স্বীকার করে, মৗলভীপাড়া এলাকা থেকে ইয়াবা নিয়ে তারা চট্টগ্রামে সরবরাহ করে আসছিল।

এক পর্যায়ে দুই ভাইকে নিয়ে টেকনাফের চকবাজার এলাকায় ইয়াবা উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে তাদের সহযোগীরা পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশের এএসআই মাজাহার, কনস্টেবল দ্বীন ইসলাম ও আমজাদ গুলিবিদ্ধ হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে গেলে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ দুই জনকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কক্সবাজারে রেফার করেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুফিয়া আক্তার জানান, রাতে পুলিশ সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজারে পাঠানো হয় এবং আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানে গোলাগুলিতে মাদক ব্যবসায়ী দুই ভাই নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি দেশীয় এলজি, ১১ রাউন্ড কার্তুজ, ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতার মর্গে রয়েছে। এই বিষয়ে মামলা প্রস্তুতি চলছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ জুলাই পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৫৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জন সক্রিয় ডাকাত ছিল। বাকিরা মাদক কারবারি।

 

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম