প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গি দমনে অনেক দেশের সরকারের চেয়ে বেশি সফল বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গি দমনে অনেক দেশের চেয়ে অনেক বেশি সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আমরা জঙ্গি নির্মূল করতে পেরেছি, সেই দাবি আমরা করবো না। তবে জঙ্গি দমন করা সম্ভব হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জঙ্গিরা শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছিলো, জঙ্গিরা শক্তিশালী হয়েছিলো। জঙ্গিরা সেই শক্তি প্রদর্শন করার লক্ষ্যে ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়েছিলো।’
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ফয়েজ লেক এলাকার বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে “কোভিড কেবিন ব্লক” উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৫ সালের এ দিনে দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে ৫শ’র বেশি জায়গায় বোমা হামলা চালানো হয়েছিলো। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত সরকার তখন ক্ষমতায় ছিল। যারা বোমা হামলা চালিয়েছিলো, তাদের দোসররা বিএনপির জোটের মধ্যে আছে। যারা স্লোগান দেয়, আমরা সবাই তালেবান, বাংলাদেশ হবে আফগান, তারা কিন্তু ২২ দলীয় ঐক্যজোটের মধ্যেই আছে।’
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় যদি জঙ্গিদের না থাকতো তাহলে, জঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব হতো। যখন কোনও জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হতো, তখন বেগম খালেদা জিয়া এমন কথাও বলেছিলেন, ‘কিছু লোককে ধরে এনে আটকে রাখা হয়, যখন চুল-দাঁড়ি লম্বা হয়, তখন তাদেরকে জঙ্গি বলা হয়।’ এই ধরনের দায়িত্বহীন কথাও তিনি বলেছেন। এভাবে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।’
দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। সেটিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। শুরুতে যেভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিলো, করোনাভাইরাসে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে, রাস্তায় মানুষের লাশ পড়ে থাকবে, হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যাবে না- এ ধরনের অনেক আশঙ্কার কথা বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন। কথায় কথায় যারা সরকারের সমালোচনা করেন, তারাও বলেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে সেই পরিস্থিতি হয়নি।
অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের শিকার হচ্ছে জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নিউজিল্যন্ডে করোনা শূন্য হয়ে যাওয়ার পর আবার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। চীনের উহান ও বেইজিংয়ে করোনা শূন্য হওয়ার পর আবার দেখা দিয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে স্বস্তির জায়গায় যাওয়া ঠিক হবে না।
ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যারা নিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামে সমৃদ্ধ ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। হৃদরোগের চিকিৎসায় এ রকম বিশেষায়িত হাসপাতাল দেশে আর একটিও নেই। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল করোনা ইউনিট চালু করায় আমি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। করোনা চিকিৎসায় চট্টগ্রামের অবস্থা এখন অনেক ভালো, ঢাকার চেয়ে খারাপ নয়। এখন যে পরিমাণ আইসিইউ শয্যা আছে সে পরিমাণ রোগী নেই।
অনুষ্ঠানে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন, বোর্ড সদস্য ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী, প্রফেসর মো. নুরুল আমিন, জাহাঙ্গীর আলম খাঁন, ডা. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








