নগরবাড়ী নৌবন্দরে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে আমদানি করা সার

পাবনা প্রতিনিধি
২০ আগস্ট ২০২০, ১৮:৩২আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ১৮:৪৫

খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে আমদানি করা সার পাবনার নগরবাড়ী নৌবন্দরে বাফার গুদাম না থাকায় রোদ বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে রাখা আমদানি করা সার। সারের বস্তাগুলো নৌবন্দরের খোলা জায়গায় স্টক করায় জমাট বেঁধে গুণগতমান নষ্ট এবং প্রতি বস্তায় গড়ে প্রায় ৩ কেজি করে ঘাটতি হচ্ছে। এছাড়া সারের ঝাঁঝালো গন্ধে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এতে সাধারণ জনগণ ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জানা গেছে, নগরবাড়ী নৌবন্দর ব্যবহার করে বিসিআইসি আমদানিকারকরা চীন, মিসর, সৌদি আরব, তিউনিশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার আমদানি করেন। পরে বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে সড়ক পথে সার মজুতের জন্য উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরবাড়ীতে যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খোলা আকাশের নিচে মাটিতে সারের বস্তা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এতে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকিয়ে শক্ত ও জমাট বেঁধে সারের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাতাসে ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে জায়গা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ দিকে চট্টগ্রাম নৌবন্দর থেকে প্রায় আড়াই হাজার টন রাসায়নিক সার বোঝাই পাঁচটি কার্গো জাহাজ নগরবাড়ী নৌবন্দরে নোঙর করেছে। জাহাজ আনলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। নিয়মানুযায়ী জাহাজ বন্দরে পৌঁছার পর আনলোড করে সার ট্রাকে বাফার গুদামগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু গুদামে জায়গা না থাকায় এই সার মাসের পর মাস বন্দরেই পড়ে থাকছে।

অন্য দিকে বিসিআইসির ডিলারদের যথাসময়ে সার উত্তোলনে অনীহা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডিলার জানান, অনেক দিন ধরে খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় জমাট বেঁধে সারের গুণগত মানের কিছুটা পরিবর্তন হয়। এছাড়া প্রতি বস্তায় প্রায় দুই থেকে তিন কেজি করে ওজনে কম পাওয়া যায়। ফলে কৃষকরা এই সার নিতে চায় না। কৃষকরা দেশি সারের প্রতি বেশি আগ্রহী। কিন্তু দেশী সার না দিয়ে চীন থেকে আমদানি করা সার দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

নগরবাড়ী বন্দরের লোড-আনলোড লেবার সরদার ইছাক আলী শেখ জানান, নগরবাড়ীতে বাফার গুদাম নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। এ কারণে জাহাজ থেকে সার আনলোড করে নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে স্ট্যাক দিয়ে রাখা হচ্ছে।

জননী ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার দুলাল দাস জানান, নগরবাড়ী গেজেটভুক্ত নৌবন্দর হলেও এখানে সরকারের নিজস্ব কোনো বাফার গুদাম ছিল না। তবে বর্তমানে বাফার গুদামের নির্মাণ কাজ চলছে। উত্তরাঞ্চলের জন্য যে পরিমাণ সার নগরবাড়ী বন্দরে আসে, তাতে এখানে বাফার গুদাম নির্মাণকাজ জরুরি ভিত্তিতে শেষ করা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, সারের তীব্র গন্ধে বসবাস ও চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইসমাইল হোসেন বলেন, নগরবাড়ী নৌবন্দরে বাফারগুদাম না থাকায় রাসায়নিক সার খোলা আকাশের নিচে স্ট্যাক দিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে বর্তমানে বাফার গুদামের নির্মাণ কাজ দ্রুত চলছে। দ্রুত এ সমস্যা দূর হবে বলে আশা করছি।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম