বগুড়ায় ডাবের পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে শামসুন নাহার (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর বাড়ির মালামাল লুট করে পালানোর সময় এলাকাবাসী তাইরান নেওয়াজ (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করে। তবে সাঈদ নামে অপর এক কিশোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে বগুড়া শহরের মধ্য ধাওয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, ছেলে সোহেল রানা (৪৫) ও তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে বাস করতেন মৃত গোলাম মোস্তফার স্ত্রী শামসুন নাহার। সোহেল রানার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে ঈদের পর বাপের বাড়ি বেড়াতে যান। সোহেল প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে তার কর্মস্থল শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে যান। বাড়িতে বৃদ্ধা শামসুন নাহার একাই ছিলেন। বিকালে প্রতিবেশী বগুড়া জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সাঈদ (১৬) ও রফিকুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় উদয়ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস তাইরান নেওয়াজ (১৬) বৃদ্ধার বাড়িতে ঢোকে। এরপর সাঈদ ওই বৃদ্ধাকে নানি ও নেওয়াজ দাদি ডাকে। তারা শামসুন নাহারকে ঘুমের ট্যাবলেট মিশ্রিত ডাব খেতে দেয়। বিশ্বাস করে তিনি ডাব খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় দুই কিশোর বাড়িতে থাকা গহনা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করতে থাকে।
এদিকে বিকালে ছেলে সোহেল রানা অফিস থেকে ফিরে দরজায় নক করতে থাকেন। তখন ওই দুই কিশোর বৃদ্ধাকে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে হত্যা করে বাড়ির প্রাচীর টপকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয়রা তাইরান নেওয়াজকে আটক করলেও সাঈদ পালিয়ে যায়।
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নেওয়াজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যা মামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি সাঈদকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।








