নাব্য সংকটের কারণে অবশেষে বন্ধ হলো শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটের সব ধরনের ফেরি চলাচল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডাব্লিউটিসি এর ব্যবস্থাপক সাফায়েত আহমেদ এই খবর নিশ্চিত করেন।
এর আগে, নাব্য সংকটের কারণে শনিবার থেকে রাতে সব ফেরি বন্ধ রাখা হয় এবং দিনে শুধু কে-টাইপ ও মিডিয়াম সাইজের পাঁচটি ফেরি দিয়ে কোনোমতে রুটে ফেরি চলাচল চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে ফেরি কলমিলতা যাত্রী ও যান নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ডুবোচরে আটকে যায়। পরে উদ্ধার করে ফেরিটিকে পুনরায় শিমুলিয়া ঘাটে ফেরত আনা হয়। কাঁঠালবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ফেরি কিশোরীও ডুবোচরে আটকে পড়ে। এরপর থেকে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ আছে।
শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডাব্লিউটিসি এর ব্যবস্থাপক সাফায়েত আহমেদ জানান, সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়েছে এই নৌরুটে। কবে নাগাদ চ্যানেল ফেরি চলাচলের উপযোগী হবে তা শুধু বিআইডব্লিউটিএ বলতে পারবে।
এদিকে, কয়েকদিন ধরে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রায় চারশতাধিক যান ঘাটে আটকে রয়েছে।
মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবীর জানান, ফেরি বন্ধ থাকায় নতুন করে গাড়ি ঘাটে আসছে না। তারপরও অনেক গাড়ি ঘাটে রয়েছে। এরমধ্যে পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যা বেশি।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমান জানান, পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে যে চ্যানেল গেছে সেটিকে চাইনিজ চ্যানেল বলা হয়। সেখানে ৭ ফুট পানি আছে। এতে ছোট ফেরিগুলোর নাব্য সংকট হয় না। তবে সেখানে নদীর স্রোত তীব্র হওয়ার কারণে ফেরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চ্যানেলের বাইরে চলে যায় ও চরে আটকা পড়ে। এমনকি স্রোতের টানে ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে গিয়েও আঘাত হানতে পারে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি বন্ধ। অন্যদিকে, যেটিকে সোজা চ্যানেল বলা হয় সেখানে পানি আছে ২-৩ ফুট। আমরা আমাদের সাধ্যমতো ড্রেজিং কাজ অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু একদিকে ড্রেজিং করি, আবার অন্যদিকে স্রোতের সঙ্গে পলি এসে চ্যানেল ভরে যায়। আবার কিছুক্ষণ পরপর ড্রেজিং পরিষ্কার করা লাগে। কারণ পানির সঙ্গে আবর্জনা এসে ড্রেজারের পাইপে আটকে যায়। বলা যায়, সব মিলিয়ে প্রকৃতির বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ করছি। আশাকরি, ৫-৬ দিনের মধ্যে চ্যানেলে নাব্য ফেরানো যাবে।








