মিশনে যেতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রুহুল আমিন উজিরপুর উপজেলার কাজিরা এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে নায়েক পদে কর্মরত (তার ব্যাচ নম্বর-১৪২৮)।
বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, ২০০৩ সালের ১৬ এপ্রিল রুহুল আমিন উপজেলার হস্তিশুন্ড এলাকার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের ৮ বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর সংসার করার একপর্যায়ে রুহুল আমিন ছুটিতে বাড়ি এসে তার স্ত্রী সেলিনা বেগমের কাছে মিশনে যাওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা যৌতুক চান। সেলিনা বেগম বাবার বাড়ি থেকে তাকে এক লাখ টাকা এনে দেন। ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর রুহুল আমিন ছুটিতে এসে স্ত্রী ও ছেলে ছায়েম মাহামুদকে বাকি টাকা না দেওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে ২০১৫ সালের ২২ মার্চ রুহুল আমিন ছুটিতে বাড়ি এসে বাকি এক লাখ টাকা না পেলে স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িতে নেবে না বলে জানান।
স্ত্রী সেলিনা বেগম তখন টাকা দিতে অপারগতা জানালে রুহুল আমিন তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। মারধরের সময় সেলিনার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ ঘটনায় ২৯ এপ্রিল উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন সেলিনা বেগম। পরে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুর রহমান একমাত্র রুহুল আমিনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন। ট্রাইব্যুনাল সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন।








