ফেনীতে করোনার সময়ে বেড়েছে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের হার

ফেনী প্রতিনিধি
১৯ নভেম্বর ২০২০, ২৩:১০আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২৩:২৩




ফেনীতে করোনার সময়ে বেড়েছে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের হার করোনাভাইরাসের কারণে ফেনীতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার কমেছে।জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন দিগন্ত জানিয়েছেন এসময়ে অন্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসবের হার।

সিভিল সার্জন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিগত সময় জেলাজুড়ে সিজারিয়ান শিশুর জন্মের প্রবণতা বেশি থাকলেও করোনাকালের গত ১০ মাসের হিসাব ব্যতিক্রম। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শিশু জন্মের হার বেড়েছে। এই সময় ছয় হাজার ১৭৭ জন প্রসূতি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৫২৩ জন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্ম দিয়েছেন। শুধুমাত্র ৬৫৪ জন প্রসূতির সিজার হয়েছে।

তিনি বলেন, এক যুগ আগেও মানুষ হাসপাতালে না গিয়ে ধাত্রীর মাধ্যমে স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করাতেন। কিন্তু সম্প্রতি বছরগুলোতে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর বাণিজ্যিক কারণে অন্যদিকে প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারার ভয়ে অভিভাবকদের পীড়াপীড়িতে সিজারে সন্তান প্রসবের হার অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছেন প্রসূতিরা। করোনা মহামারির কারণে প্রসূতিরা হাসপাতালে যেতে ভয় পাওয়ায়, এমনটি হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৪৫৮ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। সিজারিয়ান হয়েছে ১০০ প্রসূতির। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩০৫ জন প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি ও পাঁচ জনের সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৩৮৬ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৮৩ জনের সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৪৪ জনের ডেলিভারি হয়েছে। এর মধ্যে একজনের সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। আগস্ট মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৬৫৮ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৭৮ জনের সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২০৮ জনের সবারই নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।

জুলাই মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২৯৮ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৭৭ জনের সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২২০ জন প্রসূতির সবার নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। জুন মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ১৮১ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৪৫ জনের সিজার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২০৪ জন প্রসূতির সবার নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। মে মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২৫৪ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৫৪ জনের সিজার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৫৩ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।

এপ্রিল মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২১৫ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৬১ জনের সিজার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৩৭ জন প্রসূতির সবার নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। মার্চ মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২৭৮ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৭৪ জনের সিজার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৪০ জন প্রসূতি সবার নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২৯১ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৬৫ জনের সিজার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২০৯ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। জানুয়ারি মাসে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৩৫০ জনের নরমাল ডেলিভারি ও ৮৯ জনের সিজার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৩৭ জন প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।

সূত্র জানায়, পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সুবার বাজারে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ‘মির্জানগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে’ গর্ভকালীন নারীদের প্রসব সেবা শুরু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদোগে মামনি এমএলটিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিভাগের মিডওয়াইফ রহিমা বেগম ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিদর্শক ফরিদা আক্তার প্রসব সেবা দিয়ে আসছেন।

মির্জানগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মিডওয়াইফ রহিমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখানে গর্ভবতীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ কেন্দ্রে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন নারীর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়। গত শনিবার একইদিন চার জন নারীর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।

মামনি প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আলতাফ হোসেন বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে সেবার মান বাড়াতে কাজ করছি। প্রকল্প থেকে নিরাপদ ডেলিভারি উপকরণ দেওয়া হচ্ছে।

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল খালেক মামুন জানান, মা ও নবজাতকের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে গর্ভবতী নারীদের সেবায় কোনও টাকা-পয়সা খরচ হয় না। নিরাপদ প্রসবের জন্য তারাও হাসপাতালে আসেন।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী