জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের নির্মাণ (২য় পর্যায়) কাজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কারাগারে থাকা যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিন (দুদক)। রবিবার (২২ নভেম্বর) দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম জেলা-১ এর সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবির মামলাটি রেকর্ড করেছেন বলে তিনি জানান।
অভিযুক্ত মো. গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীম ঢাকার জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মামলা অপর অভিযুক্ত হলেন দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল করিম চৌধুরী।
লুৎফুল কবির চন্দন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নির্মাণ কাজ জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি ও দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড নিয়েছে এমন অভিযোগ পেয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স-জিকেবিএলকে ৭৫ কোটি এক লাখ ২৯৫ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ে করা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দরপত্রের সঙ্গে শর্তানুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠান আগের পাঁচবছরে কমপক্ষে একটি ৩৫ কোটি টাকার বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ সন্তোষজনকভাবে সমাপ্তির সনদপত্র জমা দেয়। আগের পাঁচবছরে গড়ে কমপক্ষে ৪১ কোটি টাকার টার্নওভার এবং ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকার লিকুইড অ্যাসেট সংক্রান্ত কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে গিয়ে দুদক এই তথ্যের সত্যতা পায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডার নোটিশের ১৯ (ডি, ই ও এফ) নম্বর শর্তানুযায়ী কাজের অভিজ্ঞতা ও টার্নওভার সংক্রান্ত যে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় তা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সঙ্গে একক মালিকানাধীন ফার্মের নাম সংযুক্ত করে নিবন্ধনের সনদ জমা দেন। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও চুক্তির কাগজপত্র জমা দেননি।







