মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:০৯আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:০৯

পটুয়াখালী পটুয়াখালীর বাউফলের সাবপুরা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, এই বাড়তি টাকা না দিলে পরবর্তী শ্রেণিতে তাদের উন্নীত করা হবে না। করোনার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেবল বেতন ছাড়া অন্যান্য ফি না নেওয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকলেও এই বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনি পর্যন্ত বেতন যথাক্রমে ৬০, ৭০, ১০০, ১৫০ ও ১৫০ টাকা হলেও এর অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন, আইসিটি ও বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল বাবদ মোট এক হাজার ৪০ টাকা, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার ৩৮০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রত্যেক বিষয়ে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীরা ফটোকপির দোকান থেকে কিনে নিয়েছেন। যারা বেতনসহ অন্যান্য ফি দিতে পারেনি তাদের অ্যাসাইনমেন্টের খাতা জমা নেওয়া হয়নি। বেতনসহ অন্যান্য ফি জমা না দিলে তাদের উপরের ক্লাসে উন্নীত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ২০ টাকা করে মোট এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া আইসিটির ক্লাসের নামেও মাসিক ২০ টাকা করে এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে ওই বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তি পায় এমন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাবপুরা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, বিদ্যালয়ের বেতনের বাইরে অন্যান্য ফি দিতে অস্বীকার করায় তাদের অ্যাসাইনমেন্টের খাতা জমা নেওয়া হয়নি।

আবুবকর নামে এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ দিনমজুরি করেন, আবার কেউ কেউ রিকশা ও ভ্যান চালায়। তাদের পক্ষে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া করোনাকালীন সময় তাদের আয় কমে গেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘স্যারদের সঙ্গে কথা বলতে এখানে এসেছি। আমি রিকশা চালাই। বর্তমানে করোনা তাই মানুষ চলাফেরা কম করে। এখন যা রোজগার করি তাতে আমার সংসার চলে না। আমার মেয়েকে এত টাকা দিয়ে উপরের ক্লাসে উঠাতে পারবো না।’ 

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন আদায় করা হচ্ছে। একসঙ্গে ১২ মাসের টাকা নেওয়ায় টাকার পরিমাণ বেশি হয়েছে।’

আইসিটি ক্লাসের জন্য ২০ টাকা এবং বিদ্যুৎ বিলের জন্য ২০ টাকা করে নেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন। বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের তিনটি মিটারে মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। বিদ্যালয়ে বিশেষ কোনও ফান্ড না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।’ তবে ৫০ জন গরিব ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়নি বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ইয়াছিন এবিএম শাহজাদা বলেন, ‘বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কিছু অর্থ নেওয়া হয়েছে। এটা এমন কোনও দোষের নয়।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হক বলেন, ‘টাকা দিতে না পারায় অ্যাসাইনমেন্টের খাতা জমা না নিয়ে ঠিক করেনি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম