ভর্তি পরীক্ষা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হওয়ায় সে বৈঠক ভণ্ডুল হয়ে যাওয়ার পর থেকে দফতরে আসছেন না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী। তিনি ছুটিতে নেই বলেও জানিয়েছেন দফতরের একাধিক কর্মকর্তা। এছাড়া গত ২১ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের পরিবর্তে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার শেখ সা’দ আহমেদ একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান ও এতে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রেজিস্ট্রারের রুটিন দায়িত্বও পালন করছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারীকে অব্যাহতি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে গত ১৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির মিটিংয়ে রেজিস্ট্রারের উপস্থিতি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও তাকে অব্যাহতি না দেওয়ায় শিক্ষকদের তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। শিক্ষকদের বিরোধিতার মুখে একপর্যায়ে তিনি সভা স্থগিত করেন।
রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। পরে গত ২২ ও ২৪ নভেম্বর রেজিস্ট্রার দফতরে গিয়ে অধ্যাপক এম এ বারীকে পাওয়া যায়নি। দফতরের কর্মকর্তা উপ-রেজিস্ট্রার মখলেছুর রহমান জানান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারীর উপস্থিতির কারণে গত ১৭ তারিখ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির মিটিং পণ্ড হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি দফতরে আসেননি। তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। রেজিস্ট্রার ছুটিতে নেই বলেও জানান মখলেছুর রহমান।
বর্তমানে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার শেখ সা’দ আহমেদ রেজিস্ট্রারের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ সা’দ আহমেদ বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান আমাকে রেজিস্ট্রারের রুটিন দায়িত্ব পালন করতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে আমি সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছি। একই কারণে ২১ ডিসেম্বরের শিক্ষা পরিষদের বৈঠকেও তিনি সচিব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান ।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল আলম খান এ বিষয়ে বলেন, সাধারণত কেউ ছুটিতে থাকলেই কেবল তার পরিবর্তে অন্য কেউ তার রুটিন দায়িত্ব পালন করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বেলায় কী ঘটেছে সেটি আমি নিশ্চিত নই।
এ বিষয়ে উপ-রেজিস্ট্রার মখলেছুর রহমান বলেন, রেজিস্ট্রার দাপ্তরিক কাজে বাইরে আছেন । সেক্ষেত্রে অন্য কেউ তার দায়িত্ব পালন করতেই পারে।
অধ্যাপক এম এ বারী ছুটিতে না থাকা সত্ত্বেও শেখ সা’দ আহমেদ রেজিস্ট্রারেরর রুটিন দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে ২২ ডিসেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান’র দফতরে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এসময় দফতরের কর্মকর্তারা জানান, করোনার কারণে উপাচার্য বাসভবনেই অফিস করেন। তবে বাসভবনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের কর্মকর্তা আজিজুর রহমান শামীম’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপাচার্য রাজশাহীর বাইরে আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উধ্বর্তন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপাচার্য ঢাকা গিয়েছেন। বর্তমানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো.জাকারিয়া ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, রেজিস্ট্রার এমএ বারী তার বাসাতেই অবস্থান করছেন।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে দুই দফা অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার দফতরে গিয়েও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। আরেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, রেজিস্ট্রার ছুটিতে আছেন কিনা আমার জানা নেই। তবে অব্যাহতি দিলে সেটি সবারই জানার কথা।








