পিসিআর মেশিনের ফিল্টার দূষিত হওয়ায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত ৯টা থেকে এই মেশিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। ফলে সংগৃহীত নমুনা এখন পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। আর বিদেশগামীদের নমুনা জরুরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে ভোলার পিসিআর ল্যাবে। তবে স্থানীয়ভাবে মেশিন দূষণমুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে মেশিন দূষণমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এতে সম্ভব না হলে মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় পিসিআর মেশিন দূষণমুক্ত করে তারপর করোনার পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। তাতে করে ২ থেকে ৭ দিন সময় লাগতে পারে। ।
মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও পিসিআর ল্যাব প্রধান ডা. একেএম আকবর কবীর জানান, শুক্রবার আরটি-পিসিআর ল্যাবে ৩৮৯টি নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা ছিল। এর মধ্যে শুক্রবার ল্যাবে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছিল। এর ৩০টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের।
শুক্রবার পিসিআর ল্যাব দূষণমুক্ত করার পরও মেশিনের ফিল্টারে দূষণ থেকে যায়। এ কারণে ওইদিন রাত ৯ টায় মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সাময়িক সময়ের জন্য পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানান ল্যাব প্রধান। শনিবার সকাল থেকে ফের মেশিনের যন্ত্রগুলো একে একে ভাইরাসমুক্ত (দূষণ) করার কাজ শুরু হয়। এরপরও মেশিনের ভাইরাস দূর না হওয়ায় মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এনে মেশিন দূষণমুক্ত করতে হবে বলে জানান ল্যাব প্রধান। এতে ২ থেকে ৭ দিন সময় লাগতে পারে।
মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এসএম সারওয়ার জানান, বরিশাল পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সংগৃহীত নমুনাগুলো পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। এর মধ্যে বিদেশ গমনেচ্ছুদের নমুনা জরুরিভিত্তিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে ভোলার পিসিআর ল্যাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর বরিশাল মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে মেশিনটি ঢাকায় নিয়ে সার্ভিসিং করা হয়। ওই সময়েও এক সপ্তাহ বরিশালে করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ ছিল।
গত বছর ৯ এপ্রিল বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে করোনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব চালু হয়। এ পর্যন্ত এই ল্যাবে ৫২ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।









