ব্লগার আহমেদ রাজীব হত্যার রায়ে পর্যবেক্ষণ অংশে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-৪-এর বিচারক মো. সাঈদ আহম্মেদ। রায়ের পর্যবেক্ষণ অংশকে শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করে আইনজীবীরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতায় ধৈর্য ধরা প্রয়োজন—এই বার্তা সমাজে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
বৃহস্পতিবার ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার রায় দেন আদালাত। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে একের পর এক ব্লগার হত্যা শুরু হয়। প্রায় দুই বছরের মাথায় প্রথম কোনও ব্লগার হত্যার বিচারের রায় ঘোষিত হলো।
রায় ঘোষণাকালে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আমরা সবাই ধৈর্যহারা হয়ে গেছি। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার বিষয়ে বিচারক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আজকাল ক্রসফায়ারের নামেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইন হাতে তুলে নিচ্ছে।
বিচারক সাঈদ আহম্মেদ পর্যবেক্ষণের এক জায়গায় উল্লেখ করেন, কেউ কিছু লিখলেই তাকে মেরে ফেলতে হবে? নানা সময় শুনেছি, ব্লগাররাও নাকি এমন কিছু লেখেন, যা পড়লে তাদের মারতে ইচ্ছে করে। বিষয়টা হলো ধৈর্যচ্যুতির। আসলে আমরা সবাই ধৈর্যহারা হয়ে গেছি। সবাইকেই ধৈর্য ধরতে হবে। আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
আইনজীবী শাহীদুর রহমান বলেন, রায়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিচারকের পর্যবেক্ষণ। সেখানে তিনি সমাজের সার্বিক যে বিষয়গুলো ঘটতে দেখা যাচ্ছে সেগুলো নিয়ে চমৎকার কিছু পর্যবেক্ষণ হাজির করেছেন। একে অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া বা পরস্পরের কথা শোনার যে চর্চা তা আমাদের সমাজে লোপ পেতে বসেছে এটিও রয়েছে তার পর্যবেক্ষণে।
রায়ের কপি দেখলে বিস্তারিত জানা যাবে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, সংশয় ও দোলাচলের মধ্য দিয়ে ব্লগারদের প্রথম হত্যার বিচারের রায় পাওয়া গেছে এটা ইতিবাচক। রায়ের পর্যবেক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, এতদিনে একটি আশা-উদ্দীপক পর্যবেক্ষণ পাওয়া গেছে। আশা করি, বিচারবিভাগ এই স্পিরিটটা ধরে রাখবে এং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই পর্যবেক্ষণকে আমলে নেবেন।
তবে, এই রায়ের মাধ্যমে সুবিচার নিশ্চিত হয়নি বলে মনে করছেন রাজীবের বন্ধু এবং সহব্লগাররা। এ বিষয়ে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই রায় আমি প্রত্যাখ্যান করছি। যেই দেশে ব্লগিংয়ের শাস্তি ১৪ বছরের জেল আর খুনের শাস্তি ৫ থেকে ১০ বছরের জেল, সেই দেশ মধ্যযুগীয় ধর্মান্ধতার অন্ধকারে আচ্ছন্ন। কারাগারে তাদের কক্ষে টিভি, সিনেমা, এবং উন্নতমানের খাবার দাবারের ব্যবস্থা করে সরকার তাদের আশ্বাস দিচ্ছে, তাদের মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছে। এগুলো ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
/ইউআই/টিএন/







