দেখতে দেখতে চলে গেলো আরও একটি বছর। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বছরের। পুরনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, না পাওয়া সব কিছুকে পেছনে ফেলে নতুন বছর যেন শান্তি আর সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে সেটাই প্রত্যাশা সকলের। একই সঙ্গে চাওয়া, বাংলাদেশ থাকুক সংঘাতমুক্ত ও নিরাপদ।
নতুন বছর শুরুর দিনটি শুক্রবার হওয়ায় অনেকেই আছেন ছুটির মেজাজে। তবে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলেছেন অনেকেই। কেউ ছুটছেন কাজের তাগিদে, কেউ ছুটছেন চাকরির খোঁজে। সদ্য স্নাতক পাস করা আব্দুল আলিম বছরের প্রথম দিনেই বসছেন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দিতে। নতুন বছরে কী প্রত্যাশা জানতে চাইলে হাসি মুখে আলিম বলেন, ‘একটি চাকরি যেন পাই-এটাই চাওয়া। তাহলেই পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবো। বাবাকে আর একা সংসারের দায় নিতে হবে না।’
ছুটির দিনের সকালেই মিরপুরের কাঁচা বাজারে আসা রফিকুল ইসলামের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানুষ যেন ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারে। জীবন যুদ্ধে সবাই যেন বিজয়ী হয়।
একই বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চাই। পরিবারের সবার মুখে হাসি দেখতে চাই।’
তবে দেশের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্কুল শিক্ষক ইমাম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দেশে পরিস্থিতি দিন দিন সংঘাতময় হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ হওয়া জরুরি।’
গৃহকর্মী মরিয়ম নিজের জন্য ভালো কিছুর আশা ছেড়েই দিয়েছেন। তবে তার দুই ছেলে লেখাপড়া করে যাতে ভালো অবস্থানে যেতে পারে সেটাই চান তিনি।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে নিজের একটি বাড়ি আছে রফিকুল ইসলামের। তার বাড়ির কাছেই আরেকটি বাড়িতে খুন হয়েছিলেন ব্লগার নীলয়। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রফিকুল বলেন, ‘নিরাপদে ঘরে থাকারও পরিস্থিতি নেই। সাধারণ মানুষের চাওয়া তো খুব বেশি না। খেয়ে পরে শান্তিতে থাকতে চায় সবাই। আমিও চাই একটা নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা।’
বছরের প্রথম সকালেই রমনা পার্কে হাঁটতে এসেছেন হাসান আরিফ আর তানিয়া। তারা জানালেন, আসছে ফ্রেব্রুয়ারিতে প্রেমের সমাপ্তি ঘটিয়ে সংসার শুরু করবেন। দু’জনেই বেশ হাসি মুখে বললেন, সুখে ও শান্তিতে সংসার করতে চাই।
মিরপুর থেকে মতিঝিল রুটে একটি বাসের চালক মিন্টু ও তার সহকারী আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা হয় নতুন বছরের প্রত্যাশা নিয়ে। মিন্টু বলেন, ‘কিছুই হলেই সবাই গাড়ি ভাঙে, পোড়ায়। কিন্তু আমাদের কী দোষ। সবার বোঝা উচিত এই গাড়ির মালিক, চালক সবাই সাধারণ মানুষ।’
আব্দুল্লাহ অবশ্য বললেন ভিন্ন প্রত্যাশার কথা। অসুস্থ মায়ের খরচ জোগাতে পড়ালেখা ছেড়ে কাজে নেমেছেন তিনি। তার মা যেন দ্রুত সুস্থ হই এই কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তবে রাজনীতির জন্য সংঘাত, জঙ্গিবাদ- এই এগিয়ে যাওয়ার পথের প্রথম বাধা বলেন মনে করেন ব্যবসায়ী ইকবাল আলম। রাজধানীর পল্টনে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন তিনি। ইকবাল বলেন, ‘সুস্থ, স্বাভাবিক পরিবেশ থাকলেই সব ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন হবে। নিরাপদ পরিবেশ থাকলেই প্রতি মানুষ নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করবে। সবার সাফল্যে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
নতুন বছরে মানুষের নিরাপত্তা বাড়াতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতে চায়। আমরা চাই প্রতিটি শিশু নিরাপদে স্কুলে যাক, ব্যাবসায়ীরা ব্যবসা করুক, নারীরা নিরাপদে চলাচল করুক। এজন্য আমারা আরও বেশি কাজ করে যাবো।’
/এসটি/







