পেঁয়াজ আমদানির ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) না থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমায় মাত্র দু দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ টাকা। পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দিলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের সবগুলো কাঁচা পণ্যের দোকানেই আমদানি করা ও দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। তবে দাম আগের তুলনায় বেশি। দু দিন আগে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও দেশি পেঁয়াজ দু দিন আগে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গত ২৯ এপ্রিল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেলেও শুধু একজন আমদানিকারকের রেলপথে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি ছিল। তিনি পেঁয়াজ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর দিয়ে গত ১১ মে হিলি রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায়। মোট ৪২টি ওয়াগনে এক হাজার ৬০৮ টন পেঁয়াজ আমদানি করেন। যা ৩১ থেকে ৩২ টাকা দরে বিক্রি করেন ওই আমদানিকারক।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ডালিম হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দু দিন আগে পেঁয়াজ কিনলাম ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজিতে, এখন তা ৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে লকডাউন চলছে। আয় রোজগার তেমন নেই বললেই চলে। এভাবে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম বাড়ে তাহলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষজন কোথায় যাবে? সরকারিভাবে টিসিবির মাধ্যমে যাতে পেঁয়াজ দেওয়া হয় সে দাবি জানাচ্ছি।’
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা ইসরাফিল হোসেন বলেন, ‘পেঁয়াজের আইপি শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে গত মাস থেকে। এতে বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আগের যেসব অনুমোদন বা আইপি ছিল তা গত ২৯ এপ্রিল মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এর পর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে রেখেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আইপি ইস্যু করা হয়নি। আইপি না দিলে তাহলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে যাবে।’









