গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌরসভাকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করে গড়ে তুলতে চান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মস্থান টুঙ্গিপাড়া। এখানেই জাতির জনকের সমাধি। জাতির জনকের সমাধিসৌধকে ঘিরে টুঙ্গিপাড়া বাঙালি জাতির তীর্থভূমিতে পরিনত হয়েছে। এই পৌরসভাকে তিলোত্তমা করে সাজানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন নতুন মেয়র। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা তার নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। টুঙ্গিপাড়া পৌরসভাকে আলোকিত পৌরসভায় পরিণত করতে চান তিনি।
শেখ আহমদ হোসেন মীর্জা টুঙ্গিপাড়া গ্রামের মৃত শেখ মাহাফুজুল হক ও মহাব্বাতুন নেছার ছেলে। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে। সেখান থেকে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অবসর নেন। এরপর বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে নিয়োজিত হন আহম্মেদ হোসেন মীর্জা।
তিনি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে দাঁড়ান। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান। এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আর কোনও বৈধ প্রার্থী ছিল না। তাই গত ১৪ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র ঘোষণা করেন।
শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করতে প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রচারণা চালাবো। কাজ না হলে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করবো। ওই কমিটি মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করবে।’
তিনি বলেন. ‘আমি বঙ্গবন্ধুর জম্মস্থান টুঙ্গিপাড়াকে তিলোত্তমা করে সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। সরকারের সহায়তায় আমি এ কাজ করতে পারবো। টুঙ্গিপাড়া পরিদর্শনে এসে মানুষ যাতে সাজানো-গোছানো, পরিচ্ছন্ন ও নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতে পারে তার ব্যবস্থা করবো। বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার সৌন্দর্য দেখে দর্শনার্থীরা যাতে প্রশান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন সে ধরনের কাজ করবো।’
পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে তার নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মেয়র।
তিনি বলেন, পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিভাগের কাজ নিজেই তদরকি করবেন। পৌরসভায় চলমান কাজ নিজেই পরিদর্শন করবেন। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কোনও ছাড় দেবেন না। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা বলেন, ‘পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ প্রকৃত ঠিকাদাররা করবেন। দলীয় অযোগ্য লোককে কাজ দেওয়া হবে না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে শতভাগ কাজ বুঝে নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মতো আমি টুঙ্গিপাড়া পৌরসভাকে একটি আলোকিত পৌরসভা বানাতে চাই। পৌর এলাকার নাগরিক অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজের ব্যবস্থা করতে চাই। পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে বাতির ব্যবস্থা করবো। স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেবো।’
/এফএস/








