যশোর প্রতিনিধি
যশোর শহরের গাড়িখানা রোডে লিজের সম্পত্তি পুলিশ দখল করেছে এমন অভিযোগে সংখ্যালঘুদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলা হওয়া সত্ত্বেও লিজের সম্পত্তি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং উচ্ছেদের সময় ধর্ম তুলে গালিগালাজও করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাইটস যশোর নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুলিশ রাতারাতি অবৈধভাবে তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি জোর করে দখল করে নিয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মালামাল বের করে সেখানকার দরজা ইট দিয়ে গেঁথে দেয়।
পুলিশের এই অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, এমনকি সেখানকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী কয়েকজন ব্যবসায়ীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে গালিগালাজও করা হয়েছে বলে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যথিত কণ্ঠে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ‘আমার পরিবার মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আর আজ ধর্ম তুলে গাল দেওয়া হচ্ছে। তাহলে কি আমরা সংখ্যালঘুরা পুলিশের কারণে এদেশে থাকতে পারবো না?’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শহরের প্রাণকেন্দ্র গাড়িখানা রোডে যশোর মৌজা জেএল নং- ৮০, সিএস খতিয়ান নং-৫১, এসএ খতিয়ান নং-১৭, সাবেক দাগ নং-১১৯ ও হাল দাগ নং-৯৫ এ মোট জমির পরিমাণ ১ দশমিক ২০ একর। এই জমি কালেক্টরেট মহোদয় ব্রিটিশ আমল থেকে তত্ত্বাবধান করে আসছে। একইসঙ্গে এই জমি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত নিয়ে কাঁচাপাকা ঘর ও দোকানঘর নির্মাণ করে ভারত বিভাগের আগ থেকেই স্থানীয় কিছু হিন্দু পরিবার বংশ পরম্পরায় ভোগদখল করে আসছেন।
সরকারি এই খাসজমি ১৯৩১ সালে ভারতীয় ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বিজয় কৃষ্ণ মিত্র নামে এক জমিদার ৩০ বছরের জন্যে লিজ নেন। সেই সময় তাকে কর দিয়ে বর্তমান ভোগদখলকারীদের পূর্বপুরুষরা সেখানে বসবাস করতেন। ১৯৫৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান পার্লামেন্ট সদস্য আহম্মদ আলী সরদার কবুলিয়াত দলিলের মাধ্যমে ওই জমি ৩০ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নেন। ওই বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে সেই সময় যশোর তৃতীয় মুন্সেফ আদালতে ৪১৪/৬২ নং দেওয়ানী মামলা ৪২০/৬২, ৪৪০/৬২ ও যশোরের সাব জজ আদালতে ৬২/৬৩, ৬৩/৬৩ ও ৬৪/৬৩ নং আপিল মামলা করা হয়। বর্তমানে সেই মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বৈধ বরাদ্দপ্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের মাধ্যমে পুলিশ তার সাংবিধানিক দায়িত্ব অস্বীকার করেছে। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ১৫টি বসতঘর অবমুক্তির দাবি করেন। অন্যথায় তারা কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, আসাদুজ্জামান শিবলু, শেখ ফজলুর রহমান, সালমা বেগম, হালিমা ইসলাম, পলি আকতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসপি (সদর) শাফিন মাহমুদ পুলিশের পক্ষে কোনও বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন।
/বিটি/টিএন/








