আজ বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১-এর এইদিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার-আল বদর-আল শামসকে পরাজিত করে বিজয়ের আনন্দে রাস্তায় নেমে আসেন বরিশালবাসী। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টায় ওয়াপদা কলোনির নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমির ‘স্মৃতি-৭১’ স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন।
এরপর পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান, ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান, পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন।
একই স্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বরিশাল জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, বরিশাল মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দফতর প্রধান এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
১৯৭১ সালের এই দিনে অগ্রসরমান মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে দখলদার পাক বাহিনী এ শহর থেকে ডেরা গুটিয়ে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা থেকে বরিশালে কারফিউ জারি করেছিল পাকবাহিনী। সীমান্তে মিত্রবাহিনী আক্রমণ শুরু করার পর ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি নেয়।
বরিশাল শহরকেন্দ্রীক বিভিন্ন সড়ক চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় হানাদাররা নৌপথে পালানোর পরিকল্পনা করে। এ উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী স্টিমার ইরানী ও কিউই, লঞ্চ এবং কার্গো বরিশাল স্টিমার ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়। এসব নৌযানে করেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, মিলিশিয়া, দালাল ও রাজাকাররা বরিশাল ত্যাগ করে। পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলোর একাংশ চাঁদপুরের কাছে মেঘনা মোহনায় ভারতীয় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার কবলে পড়ে এবং স্টিমার, গানবোট ও কার্গো ধ্বংস হয়।
অপর নৌযানগুলো বরিশালের কদমতলা নদীতে ভারতীয় বিমানের বোমার আঘাতে পাকবাহিনীসহ নিমজ্জিত হয়। ফলে এসব জাহাজে পলায়নরত সব পাকসেনা, মিলিশিয়া, রাজাকার কমান্ডার ও দালালরা নিহত হয়। পাক বাহিনীর শহর ত্যাগের খবরে আট মাস ধরে অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে স্লোগান দিয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসেন।









