নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি হাসপাতালের ভেতর থেকে জহিরুল ইসলাম (৩৭) নামে এক কর্মচারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসকসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহতের স্ত্রী তাহিরা শবনম জুবাইদা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয় জনকে আসামি করা হয়। গ্রেফতার পাঁচ আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বিকালে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
তারা হলেন হাসপাতালের পরিচালক মনিরুল ইসলাম, ম্যানেজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও আক্তারুজ্জামান, চিকিৎসক নাজমুল আলম হাসান এবং ওয়ার্ডবয় মিন্টু মিয়া। এর আগে বুধবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করেছিল পুলিশ।
বুধবার সকালে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তার ‘নতুন সেবা’ হাসপাতালের একটি কক্ষ থেকে জহিরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জহিরুল উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আবুল হোসেনের ছেলে। আট বছর ধরে ওই হাসপাতালের ফার্মেসিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, জহিরুলকে হত্যা করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা ওই দিন হাসপাতাল ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, জহিরুল প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে দায়িত্ব পালন শেষে হাসপাতালের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে হাসপাতাল থেকে স্বজনদের জানানো হয়, জহিরুল মারা গেছেন। খবর শুনে স্বজনরা হাসপাতালে এসে জহিরুলের লাশ ঘুমানোর কক্ষের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় জহিরুলের হাতে-পায়ে ইনজেকশন পুশ করার চিহ্ন দেখতে পান তারা। এর কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।
পুলিশ বলছে, জহিরুল ইসলামের শরীরে ইনজেকশন পুশ করার চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মামলা করেছেন। চিকিৎসক ও পরিচালকসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ড চেয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। বিকালে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা সরোয়ার আগামী রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জহিরুলের বাবা আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করে লাশ ফেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করলে আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে।’









