‘খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির কোনও আগ্রহ নেই। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তও হয়েছে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে দলের সিদ্ধান্ত না মেনে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শনিবার (২৯ এপ্রিল) খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এ মন্তব্য করেছেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে মনা আরও বলেন, ‘এটি নতুন কিছু না। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। দলের সবাই এ সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।’
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘২০১৮ সালের খুলনা সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মডেল দিয়েই বর্তমান সরকার সব নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে সফল হয়েছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক। শুধু কৌশলগত কারণে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচন করা যায় কিনা, বিএনপি নির্বাচন টেস্ট কেস হিসেবে এটিকে দেখতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এর আগেও বিএনপি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। যেহেতু এটি জাতীয় নির্বাচন নয় এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নির্বাচনের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি থাকবে। সেক্ষেত্রে সরকার চাপে থাকবে বলে সবাই মনে করছেন। এ ছাড়া নির্বাচন তো জনগণকে নিয়ে ভোটের লড়াই, সে কারণে আমরা সরকারকে পরাস্ত করতে এ পথ বেছে নিতে পারি কিনা তা আমাদের ভাবা উচিত। এটি একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, সে কারণে আমার ব্যক্তিগত মত আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোতেই বিএনপির থাকা উচিত।’
তবে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনপ্রিয় দল। সে দলের একজন জনপ্রিয় প্রার্থী ছিলাম আমি। নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে যে আমাদের আগ্রহ নেই, তা না। বিএনপি যদি নির্বাচনে যায়, তাহলে আমি প্রার্থী হতে চাইবো।’
কেসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান রহমান কাকন বলেন, ‘২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হই। নির্বাচনে জনগণ আমাকে সম্মান জানায়। জনতার এ সম্মানকে শ্রদ্ধা জানাতে হলে আসন্ন নির্বাচনেও অংশ নিতে হবে।’








