রংপুরে ডেঙ্গু রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১০ জন। রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট না খোলায় সাধারণ রোগীদের সঙ্গে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। এতে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইউনুছ আলী একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম বুলেট লাল (৩০)। তিনি রংপুর নগরীর সদর হাসপাতাল সুইপার কলোনির মানুল লালের ছেলে। বুলেট ঢাকা জজ কোর্টে সুইপার হিসেবে চাকরি করতেন। ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটিতে রংপুরে এসেছিলেন।
জানা গেছে, দু দিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বুলেটকে সোমবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তিনি মারা যান।
এদিকে, সরেজমিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা কোনও ওয়ার্ড খোলা হয়নি। অন্য রোগীদের সঙ্গে তাদের গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শাহরিয়ার সাকিব শৌখিন জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঈদের ছুটিতে লালমনিরহাটের বাসায় আসেন। গত তিন দিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরের কারণে লালমনিরহাটে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে দুই দিন ধরে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাইরে থেকে পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু হয়েছে বলে জানা যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে ডেঙ্গু রোগীদের কোনও ওষুধ দেওয়া হয় না। ডাক্তাররাও ঠিকমতো আসেন না। ডেঙ্গু রোগীদের আলাদা ইউনিটে রাখার ব্যবস্থা করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।’
কুড়িগ্রাম থেকে আসা রোগী ফরহাদ হোসেন জানান, তিনি ঢাকার সাভারে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ঈদের ছুটিতে কুড়িগ্রাম এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে এই হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু হাসপাতালে কোনও ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা হয় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু ধরা পড়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি আছেন রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ আলুটারী এলাকার সালেকুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকমতো ডাক্তার আসেন না। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। একই অভিযোগ করলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর স্বজন মোসলেম উদ্দিন।
৩১ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের। এ ব্যাপারে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. ফারুখ বললেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড হলে ভালো হতো।
সার্বিক বিষয়ে জানতে কথা হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইউনুছ আলীর সঙ্গে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, তিনি নিজেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দেখতে যাননি। মেডিসিন বিভাগের প্রধান তাকে জানিয়েছেন একজন মারা গেছেন। আরও ১০ জন ভর্তি আছেন।
ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং তাদের অন্য রোগীদের সঙ্গে রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ রোগীদের সেবা না পাওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।








