চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর (৬৪) বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সমন গায়েব করার অভিযোগে আদালতের এক পেশকারকে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (৯ অক্টোবর) ভারপ্রাপ্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেব এ বদলির আদেশ দেন। এ ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুরাদ হোসাইন বলেন, ‘সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আাদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে ক্যাশিয়ার পদে বদলি করা হয়েছে। সমন গায়েব করার ঘটনা তদন্তে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. অলি উল্লাহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'
মারা যাওয়া দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গত ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার সি আর নং-৭৩৩।
বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের মোহাম্মদ হাশেমের মেয়ে রনি আক্তার তানিয়া (২৬) নিজেকে মারা যাওয়া দুদক কর্মকর্তার বাসার গৃহকর্মী দাবি করে এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আদালত সমন জারি করলেও সেটি পৌঁছেনি আসামিদের কাছে। সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর পরিবারের অভিযোগ, আদালতের পেশকার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বাদীর সঙ্গে আঁতাত করে সমন গায়েব করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ৩০ সেপ্টেম্বর পরোয়ানাটি চান্দগাঁও থানায় আসে। ৩ অক্টোবর দুদকের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন এক কিলোমিটার মহুরি বাড়ি এলাকার পৈতৃক বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি সর্বশেষ চট্টগ্রামের দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এ উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে ২০০৭ সালের ১২ জুলাই তিনি অবসর গ্রহণ করেন।








