ফরিদপুরে গত দুই দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ অফিস বলছে, জাতীয় গ্রিডের ব্রেকারে ত্রুটির কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। শনিবার রাতে মেরামত করার পর সংযোগ দেওয়ার আগেই রবিবার সকালে লাইনের ওপর গাছ পড়ে। এ জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে একটানা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কারও বাসায় পানি নেই, ফ্রিজের জিনিসপত্রও নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া অটোরিকশা কিংবা ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ। মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক অনেক জায়গায় বন্ধ। শিল্প ও উৎপাদনমুখী কলকারখানাও বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার ব্যবসায়ী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একনাগাড়ে দুদিন বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (সেবা) রুবাইদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের ব্রেকারে ত্রুটির কারণে ফরিদপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে, শনিবার রাতে ব্রেকার মেরামত করা হয়। আজ রবিবার সকালে ঝড়ে সড়কে গাছ পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগের সবাই কাজ করছেন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে। হয়তো আজ সন্ধ্যা নাগাদ ফরিদপুরের সব স্থানে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে।’
বিদ্যুৎ না থাকা প্রসঙ্গে বোয়ালমারীর স্কুল শিক্ষক কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যারা পল্লী বিদ্যুতের সেবা গ্রহণ করি, তাদের গত দুই দিনের নব্বই শতাংশ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে পড়তে হয়েছে নানা বিপাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় একটা পর্যায়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আমাদের।’
একই কথা জানলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাংবাদিক ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় একটু ঝড় বা বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। গত দুই দিনে মাত্র আধ ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ থেকেছে। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রা থেমে গেছে।’
এদিকে, ফরিদপুর চরভদ্রসন এবং সদরপুরের চরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় ঝড়-বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে নিচু অঞ্চলের অনেক শাক-সবজির ক্ষেত।









