স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগম বলেছেন, ‘সব হাসপাতালে সিন্ডিকেট চক্র আছে। তাদের ছাড়া হাসপাতাল চলছে বলা যায় না। কিন্তু এই দুর্নীতি বন্ধ আমরা একাই করতে পারবো না। বন্ধ করতে দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল ও হাসপাতালের ডাক্তারসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তিনি শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং টাকা নেওয়া বন্ধ করার চেষ্টা করছি। এবার আমরা সাড়ে ৩ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। তাদের পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে এবং মেধা অনুযায়ী পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০টি করে চয়েজ নেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এ নিয়ে অভিযোগ আসেনি।
‘সারা দেশে ১০ হাজার চিকিৎসকের ঘাটতি আছে। সাড়ে ৩ হাজার চিকিৎসক নেওয়ার জন্য বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানেও ইলেক্ট্রনিক্স সিস্টেম আর মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা নিয়োগ, বদলি আর পোস্টিং নিয়ে দুর্নীতি বন্ধে আমরা কাজ করছি। হাসপাতালসহ সব ক্ষেত্রে সচ্ছতা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে আমরা আগামী মাস থেকে ইলেক্ট্রনিক্স পদ্ধতি ইজিপির মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছি। এতে দুর্নীতি অনেকটা কমে যাবে।’
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তুলে ধরে বলেন, ‘এই যে জুলাই আন্দোলন হলো, হাত গেলো, পা গেলো, এত জীবন গেলো। যারা সিন্ডিকেট করে, তারা কি এটা দেখেনি? তাদের ভেতরে কোনও পরিবর্তন হবে না? আমার-আপনার সবার মধ্যে যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে কি দেশের পরিবর্তন হবে? প্রত্যেকেরই তো সেলফ অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে– আমি কে, আমি কী করছি? এই উপলব্ধি সবাইকে করতে হবে।’
রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শিশু হাসপাতাল না হওয়ার কোনও কারণ নেই। একটা যদি ঘোড়ার গাড়ি চালাতে যাই, ঘোড়ার সঙ্গে গাড়িটা লাগবে। রশি লাগে, চাকা লাগে। শুধু ঘোড়া দিয়ে দিলেই তো গাড়ি হবে না। হাসপাতালও সেরকম। হাসপাতাল করতে হলে তার জনবল লাগবে। তারা জনবলের কোনও পরিকল্পনা করেনি। যন্ত্রপাতির পরিকল্পনা কিছু করেছে, কিছু করেনি। কাজেই আমরা হঠাৎ করেই এগুলো এনে দিতে পারবো না। কাজেই আমরা আস্তে ধীরে এগুলো করবো। আমি ফিরে গিয়ে দেখি কী করতে পারি। যত দ্রুত সম্ভব চালু করা যায় কিনা সেটা দেখবো।’
তিনি বলেন, ‘রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনেক সমস্যা আছে। ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট নেই; মেশিন নেই– সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য ৫শ ৬০ বেডের একটি স্পেশালাইড ইউনিট স্থাপনের কাজ চলছে। আমরা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। এখানে ক্যানসার, কিডনি ও হার্টের রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া হবে।’
এর আগে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হাসপাতালের ১৬ নম্বর মহিলা সার্জিকাল ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।









