গাজীপুরের কাপাসিয়ার একটি পরিত্যক্ত গরুর খামার থেকে জবাই করা ৪৫টি ঘোড়ার মাংস এবং ৫টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাশক গ্রামের পরিত্যক্ত গরুর খামার থেকে এসব ঘোড়া ও মাংস উদ্ধার করা হয়।
খামারের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাড়িতে না থাকায় গরুর খামারটি অযত্নে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খামারটি খুলনার আনিসুর রহমান নামে একজনকে মাসিক ২০ হাজার টাকায় ভাড়া দিই। খামার ভাড়া দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি খামারে কী ধরনের কার্যক্রম করছিল সে বিষয়ে আমি অবহিত ছিলাম না। ভাড়াটিয়া ব্যক্তি যে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তা আমি জানতাম না। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।’ তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, খুলনা জেলার বাসিন্দা আনিসুর রহমান মাশক গ্রামের পরিত্যক্ত গরুর খামার প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকায় স্থানীয় জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ভাড়া নেয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঘোড়াগুলো ওই খামারে এনে কয়েকটি জবাই করে। আরও কয়েকটি জবাইয়ের প্রস্তুতি নেয়।
মাশক গ্রামের বাসিন্দা মাসুম মিয়া জানান, গভীর রাতে স্থানীয় জাহাঙ্গীরের পরিত্যক্ত খামারে ৪৫টি ঘোড়া জবাই করা হয়। এ সময় আরও প্রায় ৫টি ঘোড়া জবাইয়ের জন্য খামারে বেঁধে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়।
কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ওই খামারে অভিযান চালায়। এ সময় জবাই করা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়। খামারে বেঁধে রাখা জীবিত পাঁচটি ঘোড়া উদ্ধার করে স্থানীয়দের হেফাজতে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে একজন ভেটেরিনারি সার্জন ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা ঘোড়াগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দেশে ঘোড়া জবাই আইনত নিষিদ্ধ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘোড়াগুলো জবাইয়ের উদ্দেশ্যেই খামারে রাখা হয়েছিল।








