জাহাজভাঙা শিল্পে ৬ মাসে ২৮ দুর্ঘটনা, তিন জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০০আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে জাহাজভাঙা শিল্পে মোট ২৮টি দুর্ঘটনায় তিন জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ওই সময়ে ২৫ জন আহত হন। এর মধ্যে ১০ জন গুরুতর আহত এবং ১৫ জন মাঝারি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১টি দুর্ঘটনা দিনে এবং রাতে সাতটি সংঘটিত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাহাজভাঙা শিল্পে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দুর্ঘটনা বিষয়ক এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সোমবার (২৯ জুন) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইপসা এইচআরডি সেন্টারে আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। 

বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‘চলতি বছর সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে এপ্রিল মাসে। যার সংখ্যা ৮টি। দুর্ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটেছে গার্ডার বা ভারী বস্তু পড়ে যাওয়া, ক্রেন-হুক-ওয়্যারজনিত দুর্ঘটনা এবং গ্যাস ও অগ্নিকাণ্ড-সংক্রান্ত কারণে।’

জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্তের সভাপতিত্বে এবং বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিলস এলআরএসসি সেন্টার কো-অর্ডিনেশন কমিটির চেয়ারম্যান এ. এম. নাজিম উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তজাম্মল হোসেন, সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তা লুতফুন্নেসা বেগম, সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্য দিদারুল আলম চৌধুরী, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য মো. আলী, মো. ইদ্রিস, মানিক মণ্ডল, জামাল উদ্দিনসহ শ্রমিক প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় প্রধান অতিথি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জাহাজভাঙা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে এই শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।’

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কাটারম্যান, কাটার হেলপার, ক্রেন হেলপার, ওয়্যার গ্রুপ, ফিটারম্যান ও লোডিং গ্রুপের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে কাজ করেন। দুর্ঘটনার পেছনে অনিরাপদ আচরণ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম-এর অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া শ্রমিকদের জন্য নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, ঝুঁকি রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু, নিরাপদ কর্মপদ্ধতি অনুসরণ এবং মালিক ও সরকারের প্রতি নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর তদারকি, আইন প্রয়োগ ও প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সভার বক্তারা বলেন, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শ্রমিকের অধিকার নয়, বরং শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক
বিশ্বজুড়ে মুক্তির পথে প্রবাসী বাংলাদেশি নির্মাতা আরমান আলীর ‘শেডস অব স্যাডনেস’
বিশ্বজুড়ে মুক্তির পথে প্রবাসী বাংলাদেশি নির্মাতা আরমান আলীর ‘শেডস অব স্যাডনেস’
ঢাবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: ফুয়াদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আইনি নোটিশ
ঢাবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: ফুয়াদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আইনি নোটিশ
জ্বালানি তেলের মজুত বাড়াচ্ছে সরকার
জ্বালানি তেলের মজুত বাড়াচ্ছে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
এএসপি ফজলুর রহমান গ্রেফতার
এএসপি ফজলুর রহমান গ্রেফতার
ত্রিশ বছরে ৩০০ ফাইভ স্টার হোটেলে প্রতারণা, অবশেষে ৬৯ বছর বয়সে গ্রেফতার
ত্রিশ বছরে ৩০০ ফাইভ স্টার হোটেলে প্রতারণা, অবশেষে ৬৯ বছর বয়সে গ্রেফতার
খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা
খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা
ভিসা আবেদনকারীদের জন্য যে বার্তা দিলো ভারতীয় হাইকমিশন
ভিসা আবেদনকারীদের জন্য যে বার্তা দিলো ভারতীয় হাইকমিশন
মাঠে নেমেই মেসির ইতিহাস
মাঠে নেমেই মেসির ইতিহাস