পিরোজপুরে একটি হত্যা মামলার রায়ে স্ত্রী ও তার পরকিয়া প্রেমিকসহ চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম কিবরিয়া বুধবার এই ফাঁসির আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে নিহত মানিক মাঝির স্ত্রী শিউলী বেগম উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজন পলাতক রয়েছেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ব্যবসায়ী মানিক মাঝির স্ত্রী শিউলি বেগম, তার পরকিয়া প্রেমিক আসাদ মাঝি, ভাড়াটে খুনি গাজী ফরিদ আহম্মদ ও বেলাল গাজী।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের কলারন গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মানিক মাঝিকে ২০১০ সালের ২৫ মে রাতে তার স্ত্রী শিউলি বেগম জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে শিউলি তার পরকিয়া প্রেমিক আসাদ মাঝিসহ অন্যদের সহযোগীতায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
আরও পড়তে পারেন : পুলিশের কাছে ৪০ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য: আসবাবপত্রের দিকেও নজর রাখতে হবে
এ ঘটনায় নিহত মানিক মাঝির ছোট ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে জিয়ানগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটি পরে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।
ডিবির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক বর্তমানে ভোলা জেলা পুলিশে কর্মরত দেলোয়ার হোসেন জানান,হত্যার পর ডিবি পুলিশ প্রথমে শিউলি বেগম ও তার পরকিয়া প্রেমিক আসাদ মাঝিকে আটক করে। পরে আটক আসাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দীতে আসাদসহ চারজন মিলে মানিককে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে শিউলি বেগম ও তার পরকিয়া প্রেমিক আসাদ মাঝিসহ ভাড়াটে খুনি গাজী ফরিদ আহম্মদ ও বেলাল গাজীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
/জেবি/








