বরিশাল নগরীর ফলপট্টি এলাকার আবাসিক হোটেল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা নিহত কলেজছাত্রী নাইমা ইব্রাহিম ঐশীর প্রেমিক মো. সায়েম আলম মিমুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরিশাল কোতোয়ালী থানার এসআই মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদের নেতৃত্বে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএমপি কমিশনার এসএম রুহুল আমিন এসব জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সাইদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আব্দুর রউফসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সোমবার ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে সায়েম আলমকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাকসুদুর রহমান মুরাদ ৫দিন ঢাকায় অবস্থান করে ২৮ আগস্ট রাতে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহায়তায় মগবাজার এলাকা থেকে মো. সায়েম আলম মিমুকে গ্রেফতার করে। সায়েমের অস্থায়ী ঠিকানা ওয়ারী থানার ৬০/১ যোগীনগর রোড, তার পিতার নাম মো. সেলিম। তার কাছ থেকে ঐশীর ব্যবহৃত মোবাইলের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সায়েম আলম পুলিশকে জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে নাইমা ইব্রাহীম ঐশীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর গত ৯ আগস্ট রাতে বরিশালে এসে ফেয়ার স্টার হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাত্রিযাপন ও ঐশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সকালে আগের কক্ষ ছেড়ে দিয়ে নতুন আরেকটি রুম ভাড়া নেয়। এরপর প্রেমিকা নাইমাকে সঙ্গে নিয়ে এসে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঐ রুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। এরপর গলায় থাকা স্বর্ণের চেন, কানের রিং ও ২টি মোবাইল সেট নিয়ে হোটেলের ম্যানেজার মজিবুর রহমান আকনের সহায়তায় পালিয়ে যায়।
পরে দুপুর ১টার দিকে ফেয়ার স্টার হোটেলের কর্মচারীরা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ঐশীকে (১৭) দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ৩০৯নং কক্ষের দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। পরে ঐশীর পিতা ইব্রাহিম খলিলের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত সায়েম তাদের কাছে হত্যার কথা এখনও স্বীকার করেনি। তবে সে জানিয়েছে ফেসবুকের মাধ্যমে ইতোপূর্বে ১২/১৩জন মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে ধর্ষণ শেষে তাদের মোবাইল সেট, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, আদালতে প্রেম ও ধর্ষণের বিষয়ে সায়েম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
/এমও/







