সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘আমার মা কালো। গ্রাম্য ভাষায় কথা বলেন। তাতে কি তিনি আমরা মা। তাকে আমরা মা-ই ডাকি। কোনও সুন্দরী নায়িকাকে মা ডাকি না। দেশটা আমার মা।’
শুক্রবার পিরোজপুর শহরের স্বাধীনতা মঞ্চে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এই পিরোজপুর আমার অনেক স্মৃতি আছে। ইচ্ছা আছে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দেশের সব এলাকা ঘুরবো।’
জাফর ইকবালের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর (তৎকালীণ মহকুমা) পুলিশ প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করায় পাকিস্তানি সেনারা তাকে হত্যা করে। শুক্রবার জাফর ইকবাল স্ত্রী, ভাই, বোন ও সন্তানদের নিয়ে তার বাবার কবর জিয়ারত করেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু আমার বাবাকে স্মরণ নয়, মুক্তিযুদ্ধে পিরোজপুরে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রত্যককেই স্মরণ করি আমি। পিরোজপুরকে আমার নিজের জায়গা মনে করি। এখানে আমার বাবা শহীদ ফয়জুর আহমেদ শুয়ে আছেন। পিরোজপুরের সড়কগুলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ দেখে আমি অভিভূত।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও বলা হত বাংলাদেশকে দিয়ে কিছু হবে না। আগামীতে এমন সময় আসবে যখন বাংলাদেশ ইউরোপের মতো উন্নত দেশে পরিণত হবে। এখন আমরা বিদেশে যাই চিকিৎসার জন্য। বিদেশিরা তখন এদেশে আসবে চিকিৎসা নিতে।’
জাফর ইকবাল বলেন, ‘তোমরা লেখাপড়া করলে দেশ পালটে যাবে। পৃথিবীর কোনও দেশ বাংলাদেশকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। একসময় শিক্ষার্থীরা আমার কাছে জানতে চাইত রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা কেন। জবাবে আমি কিছুই বলতাম না। এখন রাজাকারদের বিচার হয়েছে, সাজা হয়েছে।’
নাগরিক সংর্বধনায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম সোহরাব হোসেন। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জাফর ইকবালকে পিরোজপুর জেলার মানচিত্রের মধ্যে শহীদ ফয়জুর আহমেদের ছবি খচিত একটি স্মারক উপহার দেন। সভার যোগ দেওয়ার আগে তিনি পিরোজপুরের কদমতলা ইউনিয়নের নিমা এলাকায় যান। বলেশ্বর ঘাট শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
/এসটি/







