টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার (২৩ অক্টোবর) থেকেই বরিশালের কীর্তনখেলা নদী তীরবর্তী পোর্ট রোডের ইলিশের মোকাম কর্মচঞ্চল ও সরগরম হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রটিকে ঘিরে চালু হয়ে গেছে বরফকল, পরিবহন ব্যবসা থেকে সবকিছু। এদিকে, বাজারে বেশকিছু ডিমওয়ালা মাছও দেখা গেছে।
আলিমুজ্জামান নামে এক আড়তদার জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটিতে প্রাণ ফিরে এসেছে। প্রথম দিনেই (সোমবার) নদীর ইলিশে পুরোদমে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে। দুই /এক দিন পরে সাগরের ইলিশ আসা শুরু করলে কর্মব্যস্ততা আরও বাড়বে।
এদিকে, খুচরা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, বাজারে ইলিশের দাম কম হলেও নতুন ধরা মাছের পাশাপাশি আগের ধরা কিছু মাছও ঢুকেছে। তবে এর পরিমাণ অনেক কম। কিছু মাছের পেটে এখনও ডিম রয়ে গেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ই নদীতে প্রচুর ইলিশের উপস্থিতি ছিল। তাই প্রথম দিনেই প্রচুর ইলিশ পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইলিশ লাল হয়ে গেলে তখন বলা যেতো আগের সংরক্ষিত মাছ। বাজারে কোনও লালচে ইলিশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বাজার মনিটরিং করে সব মাছেই রুপালী আর সাদা আভার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ডিমওয়ালা মাছের বিষয়ে বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ মূলত এক-বারে শতভাগ ডিম ছাড়ে না। ছয়টি অমাবস্যা-পূর্ণিমায় এরা ভাগ ভাগ করে ডিম ছাড়ে। আমরা মূলত একটি অমাবস্যা-পূর্ণিমায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি। তাই বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশ থাকতে পারে। আর জাটকা ইলিশ ধরায় এখন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও কয়েকদিন পরে তাতেও নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে বলে তিনি জানান।
বরিশাল পোর্ট রোডে সোমবার জাটকা সাইজের ইলিশ বিক্রি হয় প্রতি মন ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায়, পাশাপাশি গোটলা (৪শ গ্রামের নিচে) ইলিশ প্রতি মন ১০ থেকে ১২ হাজার, ভেলকা (৪শ থেকে ৫শ গ্রাম) ১৫ থেকে ১৭ হাজার, এলসি (৬শ থেকে ৯শ গ্রাম) ২২ থেকে ২৫ হাজার আর গ্রেট (এক কেজি বা এর ওপরে) ইলিশ ৩২ থেকে ৪০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
অন্যদিকে ইলিশ নিধন প্রতিরোধে প্রতিদিনই পরিচালিত হয় অভিযান। মৎস্য অফিসের সঙ্গে অভিযানে অংশ নেয় ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা।
এ বছর প্রজনন মৌসুমে ইলিশ নিধন বন্ধ অভিযান সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে বরিশাল বিভাগ ও জেলা মৎস্য অফিস।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আজিজুল হক জানান, ২২ দিনে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় দুই হাজার ৯২টি অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে মোবাইল কোর্ট বসে ৯৬৮টি। মামলা হয় ৭০৫টি। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় ৫৮০ জেলের। জরিমানা করা হয় ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা। জব্দ করা হয় ৪০ লাখ ৩১ হাজার মিটার অবৈধ জাল এবং ১০ মেট্রিক টন ইলিশ। জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিলি এবং জাল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ইলিশ ধরায় ব্যস্ত জেলেরা






