মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিন রবিবার (১ জুলাই) বরিশালে দুই মেয়র ও একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান এই তথ্য জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ঋণখেলাপি থাকায় বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের এবং সমর্থক ও ভোটারদের একজনেরও অস্তিত্ব না-পাওয়ায় জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী বশির আহম্মেদ ঝুনুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাকি ৬ মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাদিক আবদুল্লাহ, বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ, বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব এবং খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।’
এছাড়া যাচাই-বাছাইকালে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জামাল হোসেন সোহাগের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস জানান, তিনি গত ৩০ জুন তার খেলাপিঋণ পরিশোধ করেছেন। তারপরও তার প্রতি অন্যায় করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি এই আদেশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করবেন।
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী বশির আহম্মেদ ঝুনুও আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনি আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির খেলাপিঋণ থাকলে মনোনয়ন দাখিলের আগেই তা পরিশোধ করতে হয়।’
তিনি জানান, রবিবার প্রথম দিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীদের এবং ১ থেকে ১৫ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড ও ১ থেকে ৫নম্বর সংরক্ষিত ওয়াডের্র কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সোমবার দ্বিতীয় দিন ১৬ থেকে ৩০নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ এবং ৬ থেকে ১০নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।
মনোনয়ন বাছাইতে বৈধ ও অবৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কিংবা পক্ষে আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা যাবে। পরে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবেন বিভাগীয় কমিশনার।
৯ জুলাই বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থীরা সশরীরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। ওই দিন বিকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
পরদিন ১০ জুলাই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। আগামী ৩০ জুলাই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ২৮ জুন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ মেয়র পদে মোট ৮ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৪ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।







