‘স্বপ্নের ঠিকানায়’ আসছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজিব বসু, পটুয়াখালী
২৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৫৬আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০৫

পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের নতুন আবাসন প্রকল্প স্বপ্নের ঠিকানা পটুয়াখালীর কলাপারা উপজেলায় ধানখালী ইউনিয়নে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের নতুন ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্নের ঠিকানায় ১৩০টি পরিবারের জন্য থাকছে ১৩০টি বাড়ি। প্রকল্পে ১২০০ এবং ১০০০ বর্গফুটের ৮২ ও ৪৮টি বাড়ি রয়েছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন। আর এ উপলক্ষে এখন স্বপ্নের ঠিকানায় শেষ মুহূর্তের সাজ-সজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

স্বপ্নের ঠিকানায় রয়েছে দুটি দৃষ্টিনন্দর পুকুর। প্রতিটি ঘরে রয়েছে বিদ্যুৎসংযোগ। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ৪২টি গভির নলকূপ। রয়েছে স্কুল, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান ও মেডিক্যাল সেন্টার।

এছাড়া প্রকল্প এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে কাঁচা বাজার ও বিভিন্ন পণ্যের দোকানঘর। প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে স্থাপন করা হয়েছে তারকাটার নিরাপত্তা বেষ্টনি। প্রকল্প এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক ও চার কিলোমিটার পাকা নর্দমা। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কারিগরি স্কুল, মসজিদ, কাঁচা বাজার, দুটি পুকুর, কবরস্থানসহ আরও অনেক কিছু।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে যেসব পরিবারের ২০ শতকের বেশি জমির বসতি নষ্ট হয়েছে তাদের জন্য সাড়ে সাত শতক জমিতে ১২০০ বর্গফুট আয়তনের ৮২টি এবং যাদের কম ক্ষতি হয়েছে তাদের জন্য সাড়ে পাঁচ শতক জমিতে ১০০০ বর্গফুট আয়তনের ৪৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে রয়েছে তিনটি বেডরুম, রান্নাঘর, একটি ডাইনিং রুম ও বাথরুম। লোহার গ্রিল দিয়ে সামনের বরান্দা আটকানো রয়েছে।

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী সাফায়াত রহমান জানান, ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য যে ১৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাদের পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে স্বপ্নের ঠিকানা। এই ১৩০টি পরিবারের থাকার জন্য বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে যাদের জমি ও বসতবাড়ি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের বসবাসের কথা মাথায় রেখে একটি পুনর্বাসনের কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এই পুর্নবাসন কেন্দ্রটির নাম দেয়া হয়েছে স্বপ্নের ঠিকানা।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া মৌজায় কয়লা ভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৬ সালে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণের জন্য এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন ওই এলাকার ১৩০টি পরিবার। তাই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের পাশাপাশি শুরু হয় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রকল্প প্রক্রিয়া। ১৬ একর জমিতে বাস্তবায়িত হয় স্বপ্নের ঠিকানা নামের প্রকল্পটি।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান