বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন আগামী সোমবার পর্যন্ত স্থগিত করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় দিনের অনশন চলাকালে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফের নেতৃত্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দলের অনুরোধে অনশন স্থগিত করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া জানান, সোমবারের মধ্যে উপাচার্যকে অপসারণ করা না হলে আবারও ছাত্র-শিক্ষক সভা করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা দেওয়া হবে। ওই সময়ের মধ্যে দাবি সফলের কোনও খবর না আসলে পরবর্তীতে অনশনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিনিধি দলের সদস্য অধ্যাপক মহসিন-উল ইসলাম হাবুল। প্রফেসর মো. হানিফ এবং শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুসও শিক্ষার্থীদের অনশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএস ইমামুল হকের অপসারণের একদফা দাবিতে ববি’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনে করেন। শুক্রবার পর্যন্ত অনশনে অসুস্থ হন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ চারজন শিক্ষক এবং ১০ জন শিক্ষার্থী। তাদের শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শুক্রবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে যান সিন্ডিকেট কমিটির সদস্য ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস। কিন্তু শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের অপসারণ সংক্রান্ত ঘোষনা ছাড়া অনশন ভাঙবে না বলে জানিয়ে দেন। দুপুরে শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা দেখতে যান শের-ই বাংলা মেডিক্যালের পরিচালক ডা. মো. বাকীর হোসেন।
উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে টানা একমাস ধরে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যলেয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই রাতেই তাদের সাথে অনশনে যোগ দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ শিক্ষক।
শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যের অপসারন দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। আগামী সোমবারের মধ্যে উপাচার্য অপসারণ না হলে ফের কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ করলে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কটূক্তি করেন। এর প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৯ মার্চ ভিসি তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় তার পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।







