ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বরগুনায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বিষখালী নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তলিয়ে গেছে বিষখালী নদী সংলগ্ন বরগুনা সদর, বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। শুক্রবার (৩ মে) দুপুর ১টা থেকে বরগুনার বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া ও ঝড়োর হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। নদ-নদী উত্তাল থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের নৌযান চলাচল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন সরিয়ে নিতে নেওয়া জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জোয়ারে পানির বৃদ্ধি পাওয়া বরগুনা সদর উপজেলার, মাঝের চর, ডেমা, গুলিশাখালী, মানিকখালী, লবনগোলা, নাপিতখালী, পূর্ব বুড়িরচর, নলী, দক্ষিণ ডালভাঙ্গা, মাছখালী ও, বালিয়াতলী, ছোট বালিয়াতলী। বেতাগী উপজেলার- দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, আলিয়াবাদ, উত্তর কালিকাবাড়ি, ভোড়া, আমতলী উপজেলার- বৈঠাকাটা, পশুরবুনিয়া, জেলে পাড়া, কলাগাছিয়া, আমতলী পৌরসভার আম্মুয়ার চর। তালতলী উপজেলার- খোটকারচর, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আশারচর, সখিনা ও আমখোলা। পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের, কাকচিড়া। বামনা উপজেলার রামনা, তালেশ্বর এলাকার মানুষ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্ক রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ২ লাখ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। বেড়ি বাঁধের বাইরে আশ্রায়ণ প্রকল্পের বসবাসরত লোকজন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার গুরুত্বপূর্ণ বিষখালী, পায়রা, বলেশ্বর ও বুড়িশ্বর নদীতে স্বাভাবিক অবস্থায় ২.৮৫ মিটার উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়। কিন্তু অমাবস্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৩.১০ মিটারের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিষখালী নদীর জোয়ারের পানি। যা বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে অন্যন্য নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগী প্রকৌশলী আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বরগুনা জেলায় ২২টি পোল্ডারে ৯০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে আছে।এগুলো হলো বরগুনা সদর উপজেলায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার, বেতাগীতে সাড়ে ৪ কিলোমিটার, বামনায় এক কিলো ৯০ মিটার।
আরও পড়ুন:
ফণী আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার
ফণী মোকাবিলায় প্রস্তুত চাঁদপুর, আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে লোকজন








