ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে বরগুনায় সাড়ে আট হাজার বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলী জমি ও গাছ পালার। ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। এছাড়া ঝড়ে ঘরচাপা ২ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাথরঘাটা পয়েন্টে এবং বরগুনা সদর উপজেলা পয়েন্টে জোয়ারের পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফণীর প্রভাবে জোয়ারের পানির চাপে বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা, ছোট বালিয়াতলী, পালের বালিয়াতলী, পোটকাখালী ও নলী এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। তবে ভাটার সময় পানি নেমে যাওয়ায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। এছাড়াও বরগুনা সদর উপজেলা বদরখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী বাজার ও দক্ষিণ তেতুলবাড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলায় দুর্যোগকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে। জোয়ারের পানি বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।’
বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ রামনা পুরান লঞ্চ ঘাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে দক্ষিণ রামনা এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমতলী-তালতলী উপজেলার উপকূলীয় ২০ গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের তিন শতাধিক আধা কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত ও সহস্রাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় লোকজন বাড়ি-ঘরে ফিরে গেছেন। বন্যা শেষ হলেও সাগর ও পায়রা নদী উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাগর ও পায়রা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যারয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুর হান্নান প্রধান বলেন, ঝড়ের আঘাতে জেলায় প্রায় ২০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষিতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে ফণির প্রভাবে জেলা বিভিন্ন এলাকার সাড়ে আট হাজার ঘর-বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ১৫ হাজার গাছপালা বিধ্বস্ত ও ৪৪ হাজার ৭০ হেক্টর জমির রবিশষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের তেমন মারাত্মক কোনও ক্ষতি হয়নি। জেলা প্রশাসনসহ সরকারি বেসরকারি সব সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’







