পটুয়াখালীতে কুপিয়ে ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলামের (২২) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (০৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গত বুধবার (২৮ জুলাই) রাতে উপজেলার তেগাছিয়া বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ও তার ভাই রায়হান এ ঘটনায় জড়িত বলে আহত অবস্থায় অভিযোগ করেছিলেন রাকিবুল।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাকিবুল বলেছিলেন, আমি রাতে তেগাছিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে এলোপাড়াড়ি কুপিয়ে ডান হাতের কবজি কেটে ফেলে ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ও তার ভাই রায়হানসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া তারা আমার বাঁ হাত এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। পরে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।
ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৩১ জুলাই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন রাকিবুল ইসলামের মা রাহিমা বেগম বাদী হয়ে তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই দিন রাতেই চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. নোমান হাওলাদার, মো. খলিল হাওলাদার, মো. নয়ন বয়াতি ও মো. রুবেল সিকদার। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২৯ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তরিকুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনের নীতি-আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগের মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।








