বরিশালের মুলাদী উপজেলায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে এবং সাড়ে তিন বছরের ঘুমন্ত শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার কথা বিচারকের কাছে স্বীকার করেছেন আবুল বাশার।
নিহতরা হলেন- পাখী বেগম (২৫) এবং তার শিশুসন্তান তুহিন। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রামারচর ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের ফজলু সরদারের মেয়ে পাখী। এ ঘটনায় সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পাখীর ভাই চুন্নু সরদার বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে আবুল বাশারকে। এ ছাড়া ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বাশার ভোলার মো. আনসারের ছেলে। নিহত পাখীসহ তার আরও তিন স্ত্রী রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুলাদীর নাজিরপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান কর্মকর্তা ইমন কান্তি চৌধুরী বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই বাশারকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিকালে আদালতের বিচারক মো. মওদুদ আহমদ আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
জবানবন্দিতে বাশার জানান, তারা নদীতে একটি নৌকায় বসবাস করতেন। পারিবারিক সমস্যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। এ কারণে পাখীকে নৌকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু পাখী না যাওয়ায় ৪ নভেম্বর নৌকায় পাখীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পাখীকে জয়ন্তী নদীতে ফেলে দেন। এরপর ঘুমন্ত শিশু তুহিনকে নৌকার ভেতর থেকে বের করে নদীতে ফেলে দেন। পরে পাখী নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে মুলাদী থানায় জিডি করেন। বাশারের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, দুপুরে পাখীর লাশ শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পাখীর লাশ তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে পাখীর সন্তান তুহিনেরও সন্ধান চলছে।
গত ৪ নভেম্বর স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে মুলাদী থানায় জিডি করেন বাশার। ওই সময় বেদে সম্প্রদায়ের নৌকাটি ছিল মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী নদীর রামচর গ্রামে। রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বাশার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর পুলিশ জয়ন্তী নদীতে তল্লাশি চালিয়ে রবিবার রাতে পাখীর লাশ উদ্ধার করে।









