ভোলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. শিবলু বেপারী (২৫) নামে নববিবাহিত এক যুবক নিহত হয়েছেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মো. জাহিদ (২২) নামে আরেক যুবক আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (৯ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ধানসিঁড়ি রাস্তা সংলগ্ন জায়গায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই জায়গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুই সহোদর ভাইয়েরও মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিবলু বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুর রবের ছেলে। আহত জিহাদও ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বেল্লাল বেপারীর ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালকের সহকারী।
নিহত শিবলু নববিবাহিত। তার বিয়ের বয়স এখনও দেড়মাস হয়নি। ভালোবেসে তিনি ভোলা সদর উপজেলা বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম খাদিজা বেগম। শিবলু মোটরসাইকেল দিয়ে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন।
খবর পেয়ে শিবলুর স্ত্রী খাদিজা বেগম হাসপাতালে গিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। মাটিতে গড়াগড়ি করে আহাজারি করতে থাকেন তার মা। খাদিজা বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার সুখের সংসার মাটি হয়ে গেলো। যাকে এতো ভালোবেসে বিয়ে করলাম, আজ সেই পরপারে চলে গেলো। আমি এ শোক কীভাবে সইবো?
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার রাত ১০টার দিকে ভোলা থেকে মোটরসাইকেল যোগে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। তার মোটরসাইকেলের পেছনে জিহাদ ছিলেন। মোটরসাইকেলটির গতি ছিল অনিয়ন্ত্রিত। ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে রাস্তা সংস্করণের কাজ চলছিল। দিনের বেলায় কাজ শেষে রাস্তার ডান পাশে রাস্তার কাজে ব্যবহ্নত রোলার গাড়ি রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের গতি অনিয়ন্ত্রিত থাকায় মোটরসাইকেলটির সঙ্গে রোলারের ধাক্কা লাগে। আর এতে ঘটনাস্থলে শিবলুর মৃত্যু হয়।
কামরুল ইসলাম হাসান নামে এক পথচারী জানান, রাস্তার কাজে ব্যবহ্নত সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) রোলার গাড়ি রাস্তার একপাশে রাখা হয়েছে। শিবলুর মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে একটি পিকআপ গাড়ি চলে আসে। তখন শিবলু তার মোটরসাইকেলটি ডান পাশে চাপালে রোলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোয় শিবলু হঠাৎ রোলারটি দেখতে পাননি।
ভোলা সদর থানার এসআই শাহাবুল জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সওজের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে।









