বাংলাদেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় জোরালো আইনি কাঠামো থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতি প্রচলিত সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সহিংসতা কমছে না। তাছাড়া নির্যাতনের শিকার নারীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিচার প্রক্রিয়ার পদ্ধতিও নারীবান্ধব না। এভাবে চলতে থাকলে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বাড়তেই থাকবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৬ উপলক্ষে বরিশালে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ সব মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

সোমবার বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মনিরা বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নারী নেত্রী কোহিনুর বেগম।
সমিতির অ্যাসিস্ট্যান্ট মনিটরিং অফিসার মাসুক কামালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী শুভংকর চক্রবর্তী, উন্নয়ন সংগঠক রনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার তনু, কেকা আনসারী, নারী নেত্রী নীলা বেগম, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন থাকলেও আমাদের সমাজে, পরিবারে দৃষ্টিভঙ্গি তেমন ভাবে পরিবর্তিত হয়নি।
তাই যৌতুকের জন্য নারী হত্যা, নারী ও কন্যা শিশুকে অপহরণ, পাচার ও ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, পারিবারিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং, ফতোয়াবাজি, ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে বিচার বহির্ভূত সালিশসহ নানা ভাবে নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।
অথচ এ বিষয়গুলো প্রতিরোধের জন্য সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উদ্যোগে বিভাগীয় শহরগুলোতে আইন সহায়তা কেন্দ্র, বিনা খরচে আইনগত পরামর্শ ও মামলা পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া, নির্যাতিত নারীদের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার বা ওসিসির মাধ্যমে সমন্বিতভাবে চিকিৎসা সহায়তা, অপরাধীকে শনাক্ত করতে দ্রুত ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবে পাঠানো, আইনগত ও পুলিশি সহায়তা এবং আশ্রয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
তাই এসব তথ্য সবার জানার জন্য বিষয়গুলোকে পাঠ্যক্রমভুক্ত করারও আহ্বান জানান তারা।
/টিএন/








