পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া বন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাতে কালাইয়া বন্দরের রিয়াজ মোল্লা বিপণিবিতান ও দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিন জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কালাইয়া ও দাসপাড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। রাত ৮টার দিকে মিছিলটি রিয়াজ মোল্লা বিপণিবিতান এলাকায় পৌঁছালে সার ব্যবসায়ী আবদুল হাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে তিনি সরে গিয়ে রক্ষা পান।
পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিছিলে অংশ নেওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিএনপির অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। একই সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
আহতদের মধ্যে মো. আল মামুন (৪০), মো. কাওছার (৩৫) ও মো. মাকসুদুর রহমানকে (২৮) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য তিন জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবদুল হাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী। কোনও কারণ ছাড়াই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার এক স্বজন দাবি করেন, কোনও কারণ ছাড়াই আবদুল হাইয়ের ওপর হামলা চালানোকে কেন্দ্র করে আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আবদুল হাইয়ের বাবা প্রয়াত আবদুস ছালাম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও আবদুল হাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক আছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনও কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।









