ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কাহেতুরা গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর বাড়ির লোকজন এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কাহেতুরা গ্রামের নাসির মিয়ার সঙ্গে চার বছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকার আক্তার মোল্লার মেয়ে মাহামুদা আক্তারের (২২)। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মাহমুদাকে তার স্বামী নাসির মিয়া নির্যাতন করতো বলে অভিযোগ করেছে মাহমুদার পরিবার।
মাহমুদার পিতা আক্তার মোল্লা জানান, ‘স্বামীর বাড়ির লোকজনের যন্ত্রণা সইতে না পেরে মাহমুদা নির্যাতনের কথা তাদের জানাতো। কিন্তু সংসার ভেঙে যাবে, মেয়ের ভবিষৎ নষ্ট হবে- এমন চিন্তা করে এলাকার লোকজনকে নিয়ে কয়েকবার মাহমুদার স্বামীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দেন দরবার করেছি। মাহমুদার ৩ বছরের একটি ছেলে আছে। নির্যাতন বন্ধ করার জন্যে তার স্বামী নাসির মিয়াকে অনেকবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।’
আক্তার মোল্লা আরও বলেন, ‘গতকাল বৃহম্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়ে মাহামুদাকে বেধরক পেটায় স্বামী নাসির মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন। নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে মাহমুদা সংজ্ঞা হরিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে আমি আমার মেয়েকে তাদের হাত থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। পরে তার মুখদিয়ে রক্ত বের হওয়ার কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল আনার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাতে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পরামর্শ দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় ভোররাতে মারা যায় মাহমুদা।’
মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে তিনি থানায় মামলা করবেন বলেও জানান আক্তার মোল্লা।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ‘নির্যাতনের বিষয়টি আমরা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূ মাহমুদা বিষ পান করেছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে মোবাইলে ফোন করাসহ স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও মাহমুদার স্বামীর বাড়ির লোকজনের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
/এফএস/








