মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ করার পাশাপাশি নিঃশর্তে রোহিঙ্গাদের ওই দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মিহির কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুয়াজ্জম হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে, তাদের নারীদের ধর্ষণ এবং নারী-শিশু-পুরুষ নির্বিশেষে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার অপরাধ করছে মিয়ানমার। যার নেতৃত্বে রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।’
বুধাবার (২৭ সেপ্টম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতি বলা হয়,‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কটই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কট বা সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ যে ধৈর্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে তা নজিরবিহীন। ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশ যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অসহায় শরণার্থীদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন আমরা ক্ষুদ্র আয়তনের উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছি। রোহিঙ্গারা রোহিঙ্গাই। শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে বসবাসের কারণে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া তাদের জন্মগত অধিকার। এরইমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘসহ সারা বিশ্ব এ সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেছে। আমরাও বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ওপর সৃষ্ট মানবিক দুর্যোগ শক্তহাতে মোকাবেলা করতে পারবো।
উদ্ভুত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করে মিয়ানমারের ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। এ ছাড়া তারা যাতে বাংলাদেশের মূল জনসাধারণের সঙ্গে মিশে যেতে না পারে এবং কোনও কুচক্রী মহল যাতে তাদের কোনও হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বারবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার মতো খবরও এসেছে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ‘আমরা মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চিকে স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, আপনি এ গণহত্যা বন্ধ করুন। আর একজনের উপরও যাতে নৃশংসতা চালানো না হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিন। রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা দিন। নিঃশর্তে তাদের ফিরিয়ে নিন।
আরও পড়তে পারেন: প্রবাসী যুবক হত্যা মামলায় একই পরিবারের চার জনের ফাঁসির আদেশ








