বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় বঙ্গোপসাগরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা উল্টে যায়। এ ঘটনায় তিন শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৫১ রোহিঙ্গাকে।
বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং খুরেরমুখের কাছে সাগর উপকূলে নৌকাটি উল্টে যায়। এতে তিন শিশু নিখোঁজ হয়। পরে একই এলাকা থেকে তিন শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় নৌকায় থাকা আরও ৫১ রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলেরা।
পানিতে ডুবে মৃত শিশুরা হলো-মিয়ানমার বুচি দং কুলপাতংয়ের মোহাম্মদ ইয়াছিনের চার মাস বয়সী শিশু ওমর সালমা, আব্দুল আজিজের সাত মাস বয়সী মোহাম্মদ আয়ুব ও আব্দুল হাইয়ের সাত বছরের ছেলে আব্দুল নবী।
জীবিত উদ্ধার রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমারের মংডু শহরের দংখালী বালুর চর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার জন্য বুধবার রাতে ৫৪ রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষ মিলে একটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকায় ওঠে। নাফ নদী দিয়ে টেকনাফে ঢুকতে না পেরে সাগর পাড়ি দিয়ে নৌকাটি টেকনাফের পশ্চিমে তীরের কাছাকাছি এসে পৌঁছালে ঢেউয়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর চিৎকার শুনে কূলে থাকা স্থানীয় জেলেরা এগিয়ে এসে অনেককে উদ্ধার করে। ওই সময় তিন শিশু নিখোঁজ ছিল। পরে একই এলাকায় তিন শিশুর মৃতদেহ ভেসে আসে।
উদ্ধার কাজে জড়িত কয়েকজন জেলে জানান, উখিয়ার একটি নৌকা টাকার লোভে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এনেছিল। ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিশু মারা গেলেও ৫১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, উপকূলের কাছাকাছি একটি নৌকা উল্টে তিন রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধার ৫১ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভেসে আসা তিন শিশুর মৃতদেহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে।







