কুমিল্লায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভগ্নিপতিকে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০৯আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৩২

Comilla

কুমিল্লা শহরতলীর দৌলতপুরে গিয়াসউদ্দিন (৫০)নামের এক গৃহকর্তার হাত বাঁধা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী’র বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম বোন জামাই গিয়াসউদ্দিনকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। অপর দিকে স্ত্রীর স্বজনদের ভাষায় গিয়াসউদ্দিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।

সূত্র জানায়, নিহত গিয়াসউদ্দিন বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকার দুর্গাপুর (নোয়াপাড়া) গ্রামের তোফায়েল আহম্মেদের ছেলে। বেশ কয়েক বছর আগে গিয়াস দৌলতপুর ছায়া বিতান রেল-লাইনের পশ্চিম পাশে ‘সৌদিয়া হাউস’ নামক তিন তলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তিনি ওই বাড়ির নিচ তলায় ‘সৌদিয়া টেইলার্স’ নামের দোকান খুলে দর্জির কাজ করতেন। তার বাড়ির পশ্চিম পাশ ঘেষে যৌথ সিঁড়িতে রয়েছে স্ত্রী’র বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলমের চার তলা বাড়ি ‘মোল্লা হাউস।’ মাহে আলম কুমিল্লা সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামে মৃত আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি বর্তমানে লক্ষীপুর একটি ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান তার স্ত্রী খোদেজা আলম।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে গিয়াসউদ্দিন ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার জের ধরে স্ত্রী ও তার বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম মিলে গিয়াসকে মারধর করে হাত বেঁধে বাসার সামনে ডোবার মধ্যে ফেলে রাখে। এরপর দুপুর ১টার দিকে বাড়ির নিচতলায়‘সৌদিয়া টেইলার্স’ থেকে তার হাত বাঁধা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গিয়াস উদ্দিনের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ে বিবাহিত ও ছেলে অশোকতলা ইকরা স্কুলে পড়াশুনা করে।

পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলমের ফোন বন্ধ থাকায় তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তার স্ত্রী খোদেজা আলম জানান, গিয়াসউদ্দিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। সে প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করত। আজ (মঙ্গলবার) সকালেও তারা ঝগড়া করেছে। সে আমার ননদকে (সাজেদা বেগম) মারধর করে। পরে আমার স্বামী তার বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। এরপর ৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ এসে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, ঝগড়ার জের ধরে স্ত্রী তাকে মারধর করে হাত বেঁধে ডোবায় ফেলে রাখে। সেই রাগে-ক্ষোভে গিয়াসউদ্দিন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

নিহতের ভাই কবির হোসেন জানান, আমার ভাইকে হত্যা করেছে তার স্ত্রী সাজেদা বেগম ও তার ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম। কিছু দিন আগে মাহে আলম আমার ভাইয়ের কাছ থেকে বাড়ির জায়গা কিনেন। দীর্ঘদিন হয়ে গেছে কিন্তু তিনি জমির কেনার টাকা দেননি। উল্টো সকালে তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাখে। তারপর তাকে হত্যা করে পাখার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। ঝুলন্ত অবস্থায়ও তার হাত বাঁধা ছিল। হাত বাঁধা অবস্থায় কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না। এছাড়া তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তারা নাকি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, দুপুরে কুমিল্লা দৌলতপুর রেলওয়ে রোড এলাকার একটি বাসা থেকে এক গৃহকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যা না হত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে। তবে এই ঘটনায় মৃত গৃহকর্তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।

 

 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী