তদবিরবাজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘অফিসে অযাচিত কাউকে আসতে দেবেন না। তদবিরবাজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করুন। তদবিরবাজরাই আপনার ক্ষতির কারণ। তারা ১০ টাকা খরচ করে বাইরে গিয়ে বলে ১০ হাজার টাকা খরচ করেছে। আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে আছেন এই তদবিরবাজরাই। এরা না থাকলে আপনারা অসম্মানিত হবেন না।’
রবিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দুদক চেয়ারম্যান প্রধান অতিথি ছিলেন।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদক কাউকে আটক করলেই তারা বলেন, স্যার আমি চাপে পড়ে এ কাজ করেছি। আপনারা চাপের কাছে মাথা নত করবেন না, সে যত বড় চাপওয়ালাই হোক। দুদকের চাপের মতো কোনও চাপ নেই। এই চাপ সহ্য করার মতো ক্ষমতা কারও নেই। কেউ চাপ প্রয়োগ করলে তার কাছ থেকে লিখিত নিন। কারও মুখের কথায় কাজ করবেন না। সে যেই হোক, তার কাছ থেকে লিখিত নিন, লিখিত থাকলে আপনারা বেঁচে যাবেন।’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যিনি ঘুষ খান আমরা শুধু তাকে ধরছি না। ঘুষদাতাকেও ধরছি। কিন্তু যারা বাধ্য হয়ে ঘুষ দেন তাদের ধরবো না।’
আলমাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পান। আপনাদের অভয় দিচ্ছি, ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। দুদক কোনও ভয়ের বস্তু না। মামলা হওয়ার আগে অনেক প্রক্রিয়া আছে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা মামলা করি না, যতক্ষণ না আমাদের হাতে কাগজপত্র আসে।’
‘আপনি ভুল করছেন এটার জন্য কোনও মামলা হবে না। আপনি ভুল করবেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভুলটা যে আপনি ইনটেনশনালি করেননি সেটা প্রমাণ করতে হবে।’-বলেন ইকবাল মাহমুদ।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দেশের উন্নয়ন হবে কি হবে না এটা আমাদের শিক্ষার ওপর নির্ভর করছে। নৈতিক শিক্ষার বিষয়টা যে শুধু শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত তা নয়, এটি আরও অনেক কিছুর সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এ দুটো জিনিস ঠিক থাকলেই আমরা ভালো নাগরিক পাবো এবং সেই ছেলে-মেয়েরাই সাসটেনেবল হবে। বাচ্চা জ্ঞানী হলো কিন্তু তার যদি স্বাস্থ্য ঠিক না থাকে তাহলে আমরা সে জ্ঞান দিয়ে কী করবো? তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ বছর যদি আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভালো কাজ করতে পারি। আমরা সুশিক্ষিত নাগরিক পাবো। আর সুশিক্ষিত নাগরিক পেলে দুর্নীতি এমনতিই অনেক কমে যাবে।’
পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘উল্টো পথে গাড়ি চালাতে দিবেন না। সড়কে যে যানজট হয়, সেটি উল্টো পথে আসা গাড়ির জন্যই হয়। তাই উল্টো পথে আসা গাড়িকে এমনভাবে ধরবেন, যাতে আর কেউ জীবনে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর সাহস না পান। ট্রাফিক রুল না মানলে আপনারা ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন।’
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম ফারুক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন শাহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিরিন আখতারসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।







