কুমিল্লায় ইটভাটায় গত ২৫ জানুয়ারি ভোরে ট্রাক উল্টে নিহত নীলফামারীর ১৩ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া চেক গ্রহণ করেন তারা। অনুদান হিসেবে নিহত প্রত্যেক বিবাহিত শ্রমিকদের পরিবারকে এক লাখ টাকার এবং অবিবাহিত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও রংপুর বিভাগীয় কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দফতর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুদানের চেক গ্রহণের সময় নিহত শ্রমিক বিকাশ রায়ের স্ত্রী প্রভিতা রায় (২৮) কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘যতই টাকা দিক সরকার, টাকা দিয়ে মোর মনের দুঃখ কি দূর হবে?’
উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের নিহত ছাত্র মনোরঞ্জন রায়ের বাবা অমূল্য চন্দ্র রায় ও মা ভারতী রাণী রায় বলেন, আমাদের ছেলে বেড়াবার কথা বলে কুমিল্লাতে কয়েকদিন কাজ করতে গিয়েছিল। বলেছিল কাজ শেষে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে। সেখানে গিয়ে কয়েকদিন কাজ করে লাশ হয়ে ফিরলো। এই শোক কী করে সহ্য করি।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন— নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল মোতালেব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহীনুর আলম, জলঢাকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুজা-উদ-দৌল্লাহ, রংপুর বিভাগীয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক সোমা রায়, জেলা জজ আদালতের পিপি অক্ষয় কুমার রায়, মীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হুকুম আলী খান ও শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হামিদুল ইসলাম প্রমুখ।
রংপুর বিভাগীয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দফতরের উপ-মহাপরিদর্শক সোমা রায় জানান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়মানুযায়ী নিহত প্রত্যেক বিবাহিত শ্রমিকদের স্ত্রীরা এক লাখ করে এবং অবিবাহিত শ্রমিকদের বাবা ও মাকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জন শ্রমিক ছিলেন বিবাহিত এবং ১০ জন অবিবাহিত। এই কর্মকর্তা আরও জানান, ওই ঘটনায় আহত দুজন বিষ্ণু চন্দ্র রায় ও রিপনকে ইতোপূর্বে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে ঘরের ওপর পড়ে ১৩ ঘুমন্ত শ্রমিক নিহত হন। নিহতরা হলেন— নীলফামারির জলঢাকা উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের সুরেশচন্দ্র রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৩০), একই উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের নূর আলমের ছেলে মো. মোরসালিন (১৮), এই গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে মো. মাসুম (১৮), উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের মানিক চন্দ্র রায়ের ছেলে তরুণ চন্দ্র রায় (২৫), একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. সেলিম (২৮), রামপ্রসাদের ছেলে বিল্লব (১৯), একই উপজেলার শিমুল বাড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন রায় (১৯), নিজ পাড়া গ্রামের কিশোর চন্দ্র রায়ের ছেলে শংকর চন্দ্র রায় (২২), অমল চন্দ্র রায়ের ছেলে দিপু চন্দ্র রায় (১৯), কামাক্ষা রায়ের ছেলে অমিত চন্দ্র রায় (২০), ওই উপজেলার শিমুল বাড়ি গ্রামের দিনেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে মিনাল চন্দ্র রায় (২১), উপজেলার রাজবাড়ি গ্রামের খোকা চন্দ্র রায়ের ছেলে বিকাশ চন্দ্র রায় (২৮) ও একই গ্রামের ধলু রায়ের ছেলে কনক চন্দ্র রায় (৩৪)।






